বিশ্বব্যাংকের নামে অনলাইন প্রতারণা

 

বিশ্বব্যাংকের নাম, লোগো ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কম সুদে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আন্তর্জাতিক একটি চক্রের একজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। গ্রেফতারকৃতের নাম মো. সোহাগ হোসেন (৩৫)। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর এলাকার বাসিন্দা।

সিআইডি জানায়, প্রতারকরা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ করত। নিজেদেরকে বিশ্বব্যাংকের ‘লোন অফিসার’ পরিচয় দিয়ে ২ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা ঋণের অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিত। এরপর তারা ভুক্তভোগীদেরকে “bdworldloanprojectcw.com” নামের একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে আবেদন করতে বলত এবং বিভিন্ন চার্জ, ভ্যাট, ইন্সুরেন্স ও প্রসেসিং ফি’র নাম করে একাধিকবার টাকা নিতো।

ঢাকার শাহজাহানপুর থানায় এক ভুক্তভোগী প্রতারণার শিকার হয়ে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৮ টাকা হারানোর অভিযোগে মামলা করেন (মামলা নং-০৫, তারিখ ০৯ অক্টোবর ২০২৫)। মামলাটির তদন্তে সিপিসি’র সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সোহাগকে শনাক্ত করে। পরে ২৮ নভেম্বর ভোরে লক্ষ্মীপুরের সোনাপুর ইউনিয়নের রাজাবিয়া হাট এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ৫টি মোবাইল ফোন, একাধিক বিকাশ ও নগদ এজেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্যসহ মোট ৯টি সিম ও অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সোহাগ একটি আন্তর্জাতিক ‘বিনিয়োগ ও ঋণ প্রতারণা’ চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। চক্রটির মূল হোতা বিদেশে অবস্থান করছে। তারা বিশ্বব্যাংক, আইএফএডি ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার নাম ও লোগো ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে টার্গেট করে প্রতারণা চালাচ্ছিল। সোহাগ দেশে থাকা অবস্থায় চক্রটির মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, সিমকার্ড সরবরাহ এবং অবৈধ অর্থ লেনদেন সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতেন। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে থাকা চক্রের সদস্যদের কাছেও তিনি পাঠাতেন।

সিআইডির তথ্যমতে, একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন দেশের আরও অনেক মানুষ। বিভিন্ন থানায় এ ধরনের একাধিক মামলাও রয়েছে। গ্রেফতারকৃত সোহাগের সাথে এসব মামলার সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

সাইবার পুলিশ সেন্টার সাধারণ জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছে— কোনো সরকারি বা আন্তর্জাতিক সংস্থা কখনোই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ঋণ প্রদান করে না। কেউ যদি “ফি, ট্যাক্স বা চার্জ” এর নামে টাকা চায়, তবে সেটি প্রতারণা।

সন্দেহজনক কোনো অনলাইন অফার দেখলে বা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত সাইবার পুলিশ সেন্টার, সিআইডিতে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *