বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার দ্রুত বদলাচ্ছে। বিশেষ করে অত্যন্ত দ্রুতগামী ও দামি ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে ধীরে ধীরে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব গাড়ির বাজার এখনো ছোট হলেও এর বৃদ্ধি অত্যন্ত দ্রুত, আর ভবিষ্যতে এই গাড়িগুলো ধীরে ধীরে মূলধারার বিলাসবহুল গাড়ির বাজারে জায়গা করে নিতে পারে।
২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে বিলাসবহুল ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারের আকার ছিল প্রায় ২৬৩ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এই বাজার আরও বড় হয়ে প্রায় ১.১৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। এতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে প্রায় ১৮ শতাংশের মতো। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাজার, আর উত্তর আমেরিকা হচ্ছে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা অঞ্চল।
চার্জিং প্রযুক্তিতে বড় ধরণের উন্নয়ন বাজারকে এগিয়ে দিচ্ছে। নতুন ধরনের ৪C ও ৬C ব্যাটারি মাত্র ১৫–২০ মিনিটে গাড়িকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করতে পারে। এই খাতও দ্রুত বিকাশমান—২০২৫ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত এর প্রবৃদ্ধির হার বছরে প্রায় ২০ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ আয়ের ৩০–৪৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিপ্রেমীরা টেসলা মডেল S প্লেড, লুসিড এয়ার ড্রিম, রিম্যাক নেভারা বা পোর্শে টাইকান টার্বো GT-এর মতো গাড়ি কিনছেন বিলাসিতা ও গতির অভিজ্ঞতার জন্য। চীনে নতুন ধনীক শ্রেণি এই বাজারের অর্ধেক চাহিদা তৈরি করেছে। বেইজিং, শাংহাই ও শেনঝেনে দ্রুত চার্জ নেটওয়ার্ক তৈরি হওয়াই সেখানে ক্রেতাদের বড় আকর্ষণ।
১০০ কিলোওয়াট-আওয়ারের বেশি ব্যাটারি, কার্বন-ফাইবার বডি এবং ১০০০ হর্সপাওয়ারের মতো শক্তিশালী মোটর ব্যবহারের কারণে এসব গাড়ির দাম সাধারণত ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা থেকে শুরু হয় এবং সহজেই ১০–১২ কোটির ওপরে পৌঁছে যায়। এই কারণে উৎপাদকরা —‘সাবস্ক্রিপশন মডেল’ বা ‘পারফরম্যান্স-অন-ডিমান্ড’ সেবা চালু করছে, যাতে মালিকানা নয় বরং অভিজ্ঞতা কেনার সুযোগ বাড়ে।
ম্যালিবুতে বসবাসকারী সফটওয়্যার উদ্যোক্তা ক্রিস্টোফার লি সম্প্রতি প্রায় ১২ কোটি টাকার রিম্যাক নেভারা বুকিং দিয়েছেন। তার ভাষায়,
“দ্রুত চার্জ আর ০–১০০ কিমি/ঘণ্টা মাত্র ২ সেকেন্ডে—এটাই আমার কাছে নতুন বিলাসিতা।”
বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে এসব গাড়িতে ২০০ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি সহজলভ্য হয়ে যাবে। চার্জিং সময় ১০ মিনিটের নিচে নেমে আসবে। ফলে ক্রেতাদের ‘রেঞ্জ নিয়ে দুশ্চিন্তা’ অনেকটাই কমে যাবে। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, দাম যদি বছরে ৩০–৪০ শতাংশ করে না কমে, তাহলে এই বাজার সীমিত আয়ের মানুষের নাগালের বাইরেই থেকে যাবে।
অতি দ্রুত ও অতি দামী ইলেকট্রিক গাড়ি এখনো মূলত ধনী গ্রাহকের বাজার। তবে চার্জিং প্রযুক্তি দ্রুত উন্নতি করছে, ব্যাটারির খরচও কমছে। তাই ভবিষ্যতে বিলাসবহুল গাড়ির বাজারে এ ধরনের EV আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে—এবং জনপ্রিয়তাও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।