বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ডব্লিউএইচও একটি গুরুত্ববহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ বছরের মূল বার্তা ছিল—“বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলা, এইডস মোকাবিলায় নতুন পথ তৈরি।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বহু বছর ধরে বিশ্ব এইচআইভি–এইডস মোকাবিলায় বেশ কিছু বড় সাফল্য অর্জন করেছে। তবে এখন লড়াইটি কঠিন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, স্বাস্থ্যসেবার বিঘ্ন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংকট—সব মিলিয়ে অর্জিত অগ্রগতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে এইচআইভি সংক্রমণের হার এখনো কম এবং এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত উদ্যোগ ও যৌথ প্রচেষ্টার ফল। তবে কম সংক্রমণ মানে ঝুঁকি কম নয়—এ বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, সচেতনতা, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই ঝুঁকি মোকাবিলার প্রধান উপায়।
দিবসের অনুষ্ঠানে ডব্লিউএইচও এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে—অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে হবে এবং কাউকে পিছিয়ে রাখা যাবে না।
ডব্লিউএইচও জানায়, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তারা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে—
- জাতীয় নীতি ও নির্দেশিকা হালনাগাদে,
- স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে,
- এবং নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ডিরেক্টর জেনারেল প্রফেসর ড. মো. আবু জাফর। আরও উপস্থিত ছিলেন ড. এ বি এম আবু হানিফ (পরিচালক, প্রশাসন), ড. মো. খায়রুজ্জামান (পরিচালক, এইডস/এসটিডি), ড. জুবাইদা নাসরিন (উপপরিচালক, এইডস/এসটিডি), বাংলাদেশ পিএলএইচআইভি নেটওয়ার্কের সভাপতি মি. আবদুর রহমান, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং ডব্লিউএইচও–এর উপপ্রতিনিধি ড. রাজেশ নারওয়াল।
সবার বক্তব্যে একই বার্তা উঠে আসে—এইচআইভি–এইডস মোকাবিলায় অগ্রগতি ধরে রাখতে এখনই জোর দিতে হবে প্রতিরোধ, সচেতনতা এবং সমন্বিত কার্যক্রমে।