পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিবেশ ন্যায়বিচার, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
রোববার সাভারের ব্র্যাক সিডিএম-এ অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস-এ ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তাঁর লড়াই সবসময়ই একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে—কর্পোরেট দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রকৃতি ও মানুষের অধিকার রক্ষা। তিনি বলেন, “অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও তাদের ন্যায্য অধিকার আইনি কাঠামোর মধ্যে নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বের প্রসঙ্গে তিনি তিনটি জাতীয় অগ্রাধিকার তুলে ধরেন—অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, গুরুত্বপূর্ণ শাসনব্যবস্থার সংস্কার, এবং সম্প্রতি ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনে নিহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, পরিবেশ প্রশাসনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সংস্কার কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ২২ বছর ধরে নিষিদ্ধ থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ব্যাগের কঠোর প্রয়োগ, প্লাস্টিকমুক্ত অঞ্চল সম্প্রসারণ, প্রধান নদী ও বনজ বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, এবং বন্যপ্রাণী সুরক্ষার কার্যক্রম জোরদার করা।
রিজওয়ানা হাসান জানান, বনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার নতুন বননীতিতে ‘অবাধ, পূর্বানুমতিপ্রাপ্ত ও অবহিত সম্মতি’ নীতি গ্রহণ করেছে, যা একটি বড় অগ্রগতি।
সেন্ট মার্টিনের নাজুক পরিবেশগত অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাল বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় সেখানে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়েছে। একইসঙ্গে বায়ুদূষণ কমাতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যদিও উল্লেখযোগ্য ফল পেতে সময় লাগবে।
তিনি ফেনীর নজিরবিহীন বন্যা এবং নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সীমান্তপারের আকস্মিক পানির প্রবাহসহ বিভিন্ন জলবায়ুজনিত ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত অর্থায়ন নিশ্চিতে বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ গঠন করা হয়েছে।
উন্নয়ন নীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “মেগা প্রকল্পনির্ভরতা কমাতে হবে। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষের উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।” তিনি জানান, সরকারি দপ্তরগুলোতে কার্যকর রুফটপ সোলার স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নির্মূলে সরকারের চলমান উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবেশ ন্যায়বিচার একটি মূল্যবোধভিত্তিক ধারণা। প্রকৃত উন্নয়ন করতে হলে প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ; ইউএনডিপি বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সরদার এম. আসাদুজ্জামান; সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও ডেপুটি হেড অব কোঅপারেশন নায়োকা মার্টিনেজ ব্যাকস্ট্রম; বেলা’র চেয়ারম্যান মির্জা কামরুল হাসান; এবং বেলা’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা ইসলাম।