১লা ডিসেম্বর ২০২৫, ঢাকায় BIDA ও EuroCham Bangladesh যৌথভাবে আয়োজন করে EU–BIDA Business Climate Dialogue। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিনিয়োগকারীগণ এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনা হয়—বাংলাদেশে বিনিয়োগ কতটা সহজ, কী কী সংস্কার চলছে, আর ভবিষ্যতে কোন কোন খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা বলেন—বাংলাদেশে আরও বেশি ইউরোপীয় কোম্পানি আসতে পারে। শুধু পোশাক নয়, কৃষি, খাদ্য, প্রযুক্তি, লজিস্টিক, সেবা—বহু খাতেই বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
তাদের মূল চাহিদা ছিল—
- নিয়ম-কানুন সহজ করা
- অনুমোদন দ্রুত পাওয়া
- মান নিয়ন্ত্রণ শক্ত করা
- আমদানি-রপ্তানীতে স্বচ্ছতা
- আধুনিক লজিস্টিক সুবিধা
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়—বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে সংস্কার চলছে। ব্যবসা সহজ করার উদ্যোগ, প্রতিক্রিয়া নেওয়ার ব্যবস্থা এবং “রেজাল্ট কার্ড” চালুর পরিকল্পনা আছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত অগ্রগতি দেখতে পারেন।
২০২৪ সালের হিসাবে EU ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। দুই পক্ষের মোট পণ্য বাণিজ্য €22.2 বিলিয়ন, যার ৯৪%ই পোশাক ও টেক্সটাইল।
২০২৬ সালে LDC থেকে উত্তরণের পর বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধা বদলে যেতে পারে। তাই সরকার ইতোমধ্যেই FTA/EPA চুক্তির পথে এগোচ্ছে।
যদি ২০২৯ সালের মধ্যে FTA বা EPA না হয়, তাহলে রপ্তানিতে শুল্ক বাড়ার ঝুঁকি আছে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি দরকার—
- পোশাক শিল্পে traceability
- পরিবেশবান্ধব উৎপাদন (EU Green Deal)
- শ্রমমান ও মান নিয়ন্ত্রণ
- পণ্যের সঠিক সনদ
সংলাপে জানানো হয়, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হবে EU–Bangladesh Business Forum। সেখানে রপ্তানি, শিল্প, প্রযুক্তি, কৃষি ও অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে।
এই সংলাপ ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগের শুরু। যদি প্রতিশ্রুত সংস্কারগুলো বাস্তবে দ্রুত কার্যকর হয়—তাহলে ইউরোপীয় বিনিয়োগ শুধু পোশাক শিল্পেই নয়, বহু নতুন খাতেও বাড়বে।
বাংলাদেশ এখন যে পথে হাঁটছে, তা ভবিষ্যতের রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগে নতুন দরজা খুলে দিতে পারে।