বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) দুই দিনব্যাপী ‘বার্ষিক সম্মেলন ও কর্মশালা–২০২৫’ বুধবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। বিসিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিসিক শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের শিল্পায়নের বাস্তব রূপ। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিসিক কাজ করে যাচ্ছে।
চেয়ারম্যান ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে জানান,
- পরিবেশবান্ধব নতুন শিল্পনগরী ও শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠা,
- বিদ্যমান শিল্পনগরীর প্লট ১০০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা,
- আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মৌচাষ উন্নয়ন,
- এবং বিসিকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ চলছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে বসে মানুষ চায়না থেকে পণ্য কিনছে—তাহলে আমাদের জামদানিও বিদেশ থেকে কেনা সম্ভব হওয়া উচিত।” তিনি আরও জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানি সম্প্রসারণে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নে বিসিকের অবদান শিল্পখাতকে আরও টেকসই করছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বক্তব্যের শুরুতে জুলাই শহীদদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে পরিবর্তিত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সম্মেলন সময়োপযোগী উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, “দেশব্যাপী শিল্প বিকাশে বিসিক ৬৯ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। সামনে আমরা একটি স্বচ্ছ ও উদ্যোক্তাবান্ধব বিসিক দেখতে চাই।”
বক্তব্য শেষে অতিথিরা স্যুভেনির উন্মোচন করেন এবং বিজয় মেলার স্টল পরিদর্শন করেন। উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যের গুণগত মানের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেন।