১৬ দিনের কর্মসূচিতে সচেতনতার বার্তা দিলো রেড ক্রিসেন্ট

 

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এ বছরের ১৬ দিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এক বিশেষ আয়োজন করেছে। ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সংস্থার জাতীয় সদর দফতরের ট্রেনিং রুমে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল—নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো। এ বছর বৈশ্বিক প্রচারণার মূল থিম ছিল: “UNiTE! To End Digital Violence Against Women and Girls.”

উদ্বোধনী সেশনে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সম্মানিত চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল প্রফেসর ড. মো. আজিজুল ইসলাম (অব.), সেক্রেটারি জেনারেল ড. কবির এম. আশরাফ আলম ndc, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মেজর রেজা আহমেদ চৌধুরী (অব.), এবং সব পরিচালকবৃন্দ। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সোনাক্ষী দে এবং সুইডিশ রেড ক্রসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রণজন মোহনটও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিডিআরসিএসের নেতৃত্ব পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন—সংগঠন নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহিংসতামুক্ত কর্মপরিবেশ গড়তে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ। তারা বলেন, ডিজিটাল সহিংসতা এখন বাস্তব এক হুমকি। সোশ্যাল মিডিয়া হয়রানি, অনলাইন স্টকিং, ফেক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস—সবকিছুই নারীর জীবনের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতায় বড় প্রভাব ফেলে। এ কারণে ডিজিটাল স্পেসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তাদের বক্তব্যে ছিল সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান—“সমাজকে বদলাতে চাইলে সচেতনতা, সম্মানবোধ আর অংশগ্রহণ জরুরি।”

উদ্বোধনী সেশন শেষে সবাই একসাথে গ্রুপ ফটোতে অংশ নেন। ছবিটি শুধু স্মৃতি নয়, ডিজিটাল সহিংসতার বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়ানোর প্রতীক হিসেবেও দিনটিকে বিশেষ করে তোলে।

৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসও। এ উপলক্ষে বিডিআরসিএস ও সিবিএম গ্লোবাল যৌথভাবে একটি বিশেষ সেশন আয়োজন করে। এখানে আলোচনা হয়—কীভাবে কর্মপরিবেশকে আরও বেশি সহজপ্রবেশযোগ্য, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায়। ডিজিটাল শিক্ষায় ও কর্মক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এই সেশনগুলো পরিচালনা করেন বিডিআরসিএসের মানবসম্পদ বিভাগের উপপরিচালক ও PGI ফোকাল পারসন ফারজানা আখতার

দুটি সেশনে মোট ৯৬ জন অংশ নেন—এর মধ্যে ৪৩ জন নারী ও ৫৩ জন পুরুষ। উপস্থিত ছিলেন বিডিআরসিএসের স্টাফ, আরসিওয়াই স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা। আলোচনায় উঠে আসে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সামাজিক বাস্তবতা এবং কর্মক্ষেত্রে নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা ভাবনা। তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণ দিনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি জীবন ও সম্মানের মৌলিক অধিকার। প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য সহজ প্রবেশযোগ্য পরিবেশ তৈরি করাও মানবিক দায়িত্ব। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানের প্রতিটি সুর একটি জায়গায় গিয়ে মিলে— সবার জন্য নিরাপত্তা, সম্মান এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার সংগ্রাম এখনই থামানো যাবে না।

BDRCS এই প্রচারণার মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দিল—অনলাইন হোক বা অফলাইন, সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই আমাদের মানবিকতা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *