বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধনী অর্থনীতিগুলোতে এক নতুন সামাজিক বাস্তবতা উঁকি দিচ্ছে—মানুষ আর প্রেমে পড়ছে না, সংসার করছে না। *The Economist*-এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া—এই অঞ্চলগুলোতে এখন তরুণ-তরুণীরা সম্পর্কে জড়াতেই চাইছে না। কেবল বিয়ে নয়, ‘হুকআপ’ বা অস্থায়ী সম্পর্কেও আগ্রহ কমে গেছে।
এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ—
১. সোশ্যাল মিডিয়া ও ডেটিং অ্যাপ সহজলভ্য হলেও, অ্যাপগুলো মানুষকে অস্থায়ী মনোযোগে অভ্যস্ত করেছে। ফলে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার ধৈর্য কমে গেছে।
২. রাজনৈতিক মেরুকরণ : যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে ডেটিং পাতানোর আগেই রাজনৈতিক পরিচয় জেনে নেওয়া হয়। মতভেদ থাকলে সম্পর্কই শুরু হয় না।
৩. অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা: উচ্চ শিক্ষিত নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় আর বিয়ে বা সঙ্গীকে নিরাপত্তার উৎস মনে করছেন না। অন্যদিকে, কম আয়ের পুরুষেরা সম্পর্কে টিকতে পারছে না।
ইউরোপে এখন প্রতি সাতজন তরুণের একজন একা থাকছে। নর্ডিক দেশগুলোতে যুগল হিসেবে থাকা বা সন্তান নেওয়ার হার কমে গেছে। ফিনল্যান্ডে ৩৫ বছর বয়সী প্রতি দুজনের একজন সন্তানহীন। কারণ? “উপযুক্ত সঙ্গী মেলেনি।”
নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ে ইতিহাসে নারীর জন্য নিরাপত্তার বন্দোবস্ত ছিল। কিন্তু এখন নারীরা শিক্ষা, চাকরি ও আর্থিক স্বাধীনতায় এগিয়ে যাওয়ায় বিয়েকে আর “অনিবার্য” মনে করছেন না। বিশ্বব্যাপী ৮৯% মানুষের দেশে বিয়ের হার কমছে।
বিবাহ বা দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক শুধু জন্মহার নয়, মানসিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলে। গবেষণা বলছে, বিবাহিত মানুষেরা গড়ে অধিক সুখী ও স্বাস্থ্যবান। কিন্তু এই “সম্পর্ক মন্দা” যদি চলতেই থাকে, তবে ভবিষ্যতে সামাজিক একাকীত্ব ও জনসংখ্যা সংকট আরও গভীর হবে।
প্রযুক্তি, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য—এই ত্রয়ী নতুন প্রজন্মকে প্রেমহীন করে তুলছে। হয়তো ভবিষ্যতে “সম্পর্ক” নামক বস্তুটিই বিলুপ্ত হওয়ার পথে।