বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সংগ্রাম ও অর্জনের প্রতিটি অধ্যায়ে ‘বিজয়’ শব্দটি আমাদের জাতীয় চেতনার অংশ। সেই চেতনাকে কেন্দ্র করে ডিসেম্বর মাসে বাংলা একাডেমির মাঠে আয়োজন করা হবে ‘বিজয় বইমেলা ২০২৫’। আয়োজকেরা বলছেন, এটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়—এটি বইয়ের শক্তিকে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি জাতীয় উদ্যোগ।
বইমেলাকে বরাবরই শুধু বাণিজ্যিক কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং একটি জাতির চিন্তা–চেতনা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মানবিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের বড় মঞ্চ হিসেবে দেখা হয়। এখানে বই কেনা–বেচার পাশাপাশি পাঠকেরা পরিচিত হন নতুন ধারণা, যুক্তিবোধ, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও চিন্তার স্বাধীনতার সঙ্গে। শিশুদের জন্য কল্পনার জগৎ, তরুণদের জন্য সম্ভাবনার দিগন্ত, আর বড়দের জন্য জীবন ও সমাজকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ তৈরি করে বইমেলা।
‘বিজয় বইমেলা’ নামটির মধ্যেই রয়েছে স্বাধীনতার গল্প ও সংগ্রামের স্মৃতি। তাই আয়োজকদের মতে, এই মেলার গুরুত্ব সাধারণ বইমেলার তুলনায় আরও বেশি। এখানে বই শুধু পণ্য নয়; এটি স্বাধীন চিন্তা, মানবিকতা, শিক্ষা, আলোকিত চেতনা ও জাতি গঠনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।
বাংলা একাডেমির মাঠে অনুষ্ঠিত মেলায় অংশ নিচ্ছে দেশের প্রায় ২০০ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। আয়োজনের মধ্যে থাকবে মুক্তিযুদ্ধের তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, শিশু–কিশোরদের বিশেষ অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, লেখক–পাঠকের সরাসরি সাক্ষাৎসহ নানা কার্যক্রম। হাজারো পাঠকের উপস্থিতিতে মেলাটি একটি প্রাণবন্ত ও জাতীয় জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত উৎসবে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজয় বইমেলার সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) বহু বছর ধরে দেশের সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের মতে, এই মেলা দেশের পাঠকসংস্কৃতি ও বইপ্রেমকে আরও বিস্তৃত করবে।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরজুড়ে এই আয়োজন বইপ্রেমী মানুষদের জন্য হবে বিশেষ আকর্ষণ।