চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ক্লিন সিটি গড়তে চসিক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শহরের সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনুমতি ছাড়া কেউ যেন পোস্টার, ব্যানার বা সাইনবোর্ড না টাঙায়। ভবিষ্যতে এমন কাজ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে মেয়র নিজে নগরীর কাজীর দেউড়ি মোড়, চেরাগী পাহাড়, আন্দরকিল্লা, লালদিঘী ও চকবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বেআইনি পোস্টার, ব্যানার ও সাইনবোর্ড উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “শহরকে সুন্দর রাখতে হলে নিয়ম মানতেই হবে। কেউ যদি বিজ্ঞাপন দিতে চায়, তাহলে তা সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি নিয়েই করতে হবে। আমরা চাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার ও ব্যবসা আইন মেনে চলুক।”
তিনি জানান, “আমি নিজে প্রতি মাসে অন্তত একবার মাঠে নামি এই ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য। শহরের সৌন্দর্য রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব। ব্যানারের কারণে গাছপালা ও রাস্তার দৃশ্য ঢেকে যায়। এগুলো সরানোর পর বোঝা যায়, চট্টগ্রাম আসলে কতটা সুন্দর।”
মেয়র দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “চট্টগ্রামের ৮০ শতাংশ কোচিং সেন্টার কোনো অনুমতি ছাড়াই পোস্টার-ব্যানার লাগায়। মাত্র ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে কর্পোরেশনের অনুমোদন নেয়। এতে সিটি কর্পোরেশন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। অথচ একটি ব্যানারের জন্য মাত্র এক-দুই হাজার টাকা ফি দিলেই যথেষ্ট, যা দিয়ে শহর পরিষ্কার ও সবুজ রাখতে কাজ করা হয়।”
মেয়রের মতে, অনুমতি ছাড়া ব্যানার টাঙিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান অন্যদেরও উৎসাহিত করছে একই কাজ করতে। তিনি সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ ব্যানার সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন।
অভিযানে মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি প্রমুখ।
চসিক জানিয়েছে, এই অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে এবং শহরজুড়ে অবৈধ ব্যানার-পোস্টার অপসারণ অব্যাহত থাকবে।