কার্বন নিঃসরণ কমাতে দ্রুত রোডম্যাপের আহ্বান

ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘জেসিএম প্রজেক্ট ম্যাচমেকিং ও অনুচ্ছেদ ৬ বাস্তবায়ন অগ্রগতি’ শীর্ষক কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার জন্য নিঃসরণ হ্রাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ। তিনি মনে করেন, কার্বন বাজার শুধু বৈশ্বিক জলবায়ু সমঝোতার বিষয় নয়—এটি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং টেকসই উন্নয়নের বড় সুযোগও।

কর্মশালাটি আয়োজন করে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়। উপদেষ্টা জানান, প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ ৬ অনুযায়ী জেসিএম–এর নিয়ম বাংলাদেশে ইতিমধ্যে হালনাগাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিওপি ৩০–এ দেশের প্রথম জাতীয় কার্বন বাজার কাঠামোর প্রাক-উন্মোচন হয়েছে, যেখানে বিনিয়োগকারী, অনুমোদন প্রক্রিয়া ও বাজার স্থায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা রাখা হয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, চূড়ান্ত করার আগে আরও আলোচনার প্রয়োজন আছে।

বাংলাদেশের হালনাগাদ এনডিসির লক্ষ্য অনুযায়ী দেশটি স্বেচ্ছায় ৬.৩৯ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা পেলে আরও ১৩.৯২ শতাংশ নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত রোডম্যাপ তৈরির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে তিনি খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন।

বেসরকারি খাতের প্রতি তাঁর বিশেষ আহ্বান—রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো যেভাবে বৈশ্বিক সরবরাহ–শৃঙ্খলের নিয়ম মেনে দ্রুত টেকসই পথে এগোয়, তেমনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, টেকসই কৃষি ও প্রকৃতি–ভিত্তিক সমাধানে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, শুধু বৃক্ষরোপণ নয়—প্রকল্পগুলোর মান, তদারকি, প্রযুক্তি ও তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপদেষ্টা বিশ্ব জলবায়ু আলোচনায় ধীরগতির সমালোচনা করে বলেন, বিপর্যয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অপেক্ষা করে থাকতে পারে না। তবে জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতাকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। জাপানের পরিচ্ছন্ন জীবনধারা, জনবান্ধব শহর ও খোলা জায়গার সংস্কৃতির প্রতি প্রশংসা জানিয়ে তিনি বলেন—পরিবেশ পরিবর্তনের যাত্রায় এসব মূল্যবোধ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা।

অনুষ্ঠানে তিনি ও জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জেসিএম অফিসের পরিচালক কেইতানো তসুজি যৌথভাবে ‘অনুচ্ছেদ ৬ নির্দেশিকা’ বইটির উন্মোচন করেন। আইজেস-এর সহযোগিতায় তৈরি এই নির্দেশিকা ব্যবসায়ীদের উপযোগী প্রকল্প চিহ্নিত করা, আন্তর্জাতিক অংশীদার খুঁজে পাওয়া এবং নতুন কার্বন বাজারে যুক্ত হতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে পরিবেশ–সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (MoC) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান। তাঁর মতে, এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ–সহযোগিতায় বড় অগ্রগতি।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন—মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নবিদ শফিউল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান, আইজেস-এর পরিচালক কোয়াকুত্সু, জেবিসিসিআই–এর মহাসচিব মারিয়া হাওলাদার এবং অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শাওকাত আলী। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ প্রযুক্তি, জ্বালানি দক্ষতা ও অনুচ্ছেদ ৬–সম্পৃক্ত বিনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *