বাংলাদেশে শীত ধীরে ধীরে জমে উঠছে। হিমেল হাওয়া অঘোষিত অতিথির মতো দেশের উত্তরাঞ্চলে আগেই আভাস দিয়েছিল নিজের উপস্থিতি। এবার সেই শীত আনুষ্ঠানিকভাবে নামছে মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হয়ে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস—১৪ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে সক্রিয় থাকতে পারে এই শৈত্যপ্রবাহ।
রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামতে পারে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর অর্থ—এ অঞ্চলের মানুষকে সামনে ঠাণ্ডা রাত, কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল আর দিনভর শীতের কামড় সামলে চলতে হবে।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় সাধারণত বাংলাদেশের প্রকৃতি বদলানোর মৌসুম। হেমন্তের নরম রোদ যখন ফিকে হয়ে আসে, তখনই উত্তর দিক দিয়ে নেমে আসতে থাকে শুষ্ক, ঠাণ্ডা বায়ু। সেই বায়ুর গতি যখন কিছুটা বাড়ে, তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়—তখনই আমরা শৈত্যপ্রবাহের অনুভূতি পাই।
এই বছরের শীতের বৈশিষ্ট্য—আগের বছরের তুলনায় একটু দেরিতে নামছে। তবে একবার শুরু হলে কয়েকদিন ধরে সক্রিয় থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রংপুর ও রাজশাহীতে সাধারণত সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা পড়ে। ভোরের দিকে মাঠে-মাঠে কুয়াশার আস্তর পড়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। সিলেটের উঁচুনিচু ভূপ্রকৃতি আর চা-বাগানের এলাকাগুলোতেও কনকনে শীত অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব বলছে—হিমালয় অঞ্চল থেকে নেমে আসা বায়ুপ্রবাহ এখন তুলনামূলক শক্তিশালী। শুষ্ক উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকের বাতাস বাংলাদেশে প্রবেশ করলে স্বাভাবিকভাবেই রাতে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়। দিনেও রোদ পেলেও সেই শীত কাটানোর মতো শক্তি থাকে না।
আরেকটি কারণ হলো বায়ুর আর্দ্রতা কমে যাওয়া। আর্দ্রতা কমলে বাতাস আরও শুষ্ক হয়, আর এ ধরনের বাতাসই শৈত্যপ্রবাহের সময় সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।
শীত নেমে এলে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে দিনমজুর, চা-শ্রমিক, পরিবহণশ্রমিক, নদীপথে চলাচলকারী যাত্রী ও বয়স্ক মানুষরা। রাস্তায় কুয়াশা ঘন হলে পরিবহণ চলাচল কিছুটা শ্লথ হতে পারে। ক্ষেতে সকাল সকাল কাজ করা শ্রমিকদের জন্য ঠাণ্ডা আর কুয়াশা বাড়তি কষ্ট তৈরি করবে। শিশুদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়বে।
এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন—
- ভোর বা গভীর রাতে বাইরে বের হলে শীতবস্ত্র পরা
- গরম পানির বদলে স্বাভাবিক বা হালকা গরম পানি ব্যবহার
- শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়া
- সকালে কুয়াশার সময় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমানো
এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন অনেক জায়গায় ইতোমধ্যেই শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
১৪ থেকে ২০ ডিসেম্বরের এই শৈত্যপ্রবাহ দেশের শীতের দরজা খুলে দেবে। এরপর জানুয়ারি মাসে আরও একটি বা দু’টি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মৌসুমের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী গড়ের কাছাকাছি হলেও উত্তরের অঞ্চলে রাতের ঠাণ্ডা একটু বেশি অনুভূত হবে।