ঢাকার চারপাশে স্বয়ংক্রিয় পানি–গুণগত মান নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার

 

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে কেন্দ্র করে দূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি আধুনিক পানি–গুণগত মান নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কাজে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থা গ্রিন ট্রানজিশন ইনিশিয়েটিভ (জিটিআই)। এ নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প–বিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, কোরিয়ান বিশেষজ্ঞেরা ইতিমধ্যে জিআইএস–ভিত্তিক মানচিত্র বিশ্লেষণ করে ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর প্রধান দূষণ–উৎস চিহ্নিত করছেন। কোথা থেকে, কত গভীর থেকে এবং কতবার পানি নমুনা সংগ্রহ করা হবে—এসব নিয়েও তারা একটি একীভূত মানদণ্ড তৈরি করছেন। প্রকল্পের অংশ হিসেবে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরি করা হবে, যা ২০২৬ সালে জিটিআই–এর সহযোগিতা প্রকল্পের “ফিজিবিলিটি উইন্ডো”তে জমা দেওয়া হবে।

প্রস্তাব অনুমোদন পেলে ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকার নদী–নেটওয়ার্কে স্বয়ংক্রিয় পানি–মান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ মাসেই সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি চলমান কাজের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ বিস্তারিত প্রতিবেদনও প্রস্তুত করা হবে।

বৈঠকে ২০২৬ সালের পর দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—জাতীয় পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় পানি–মান নজরদারি ব্যবস্থা গঠন, দেশের নদীগুলোর স্বাস্থ্য–মূল্যায়ন পদ্ধতি তৈরি এবং পরীক্ষামূলকভাবে “রিভার হেলথ কার্ড” চালু করা। একটি নির্দিষ্ট নদী–পথকে পাইলট অঞ্চল হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে মন্ত্রণালয় বা পরিবেশ অধিদপ্তর নিবিড়ভাবে নজরদারি করতে পারে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, যুগ্ম সচিব লুবনা ইয়াসমিন, উপসচিব ফাহমিদা হক খান ও সিদ্ধার্থ শংকর কুণ্ডু, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এ কে এম রফিকুল ইসলাম। এছাড়া কোরিয়ান পরিবেশ সংস্থা কিইটি–এর মহাপরিচালক চো জু হিউন, গবেষণা বিশেষজ্ঞ বেক ইন হোয়ান, ইএমসি কো. লিমিটেডের পরিচালক জাং কুন জুন, উপ–মহাপরিচালক ই জং ওন, ম্যানেজার কিম আয়নসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভাপতিত্বকারী অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, নদীর ধারে বসবাসকারী মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় পানি–গুণগত মান শাসনব্যবস্থা শক্ত করা জরুরি। তিনি রিয়েল–টাইম তথ্য, ডিজিটাল পানি–মান প্ল্যাটফর্ম এবং সংস্থাগুলোর মাঝে তথ্য–বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এই সহযোগিতা বাংলাদেশ–দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং পরিবেশ–প্রযুক্তি খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *