প্রশাসন ও আইনকাঠামো পরিবর্তন চলছে, বাস্তব উন্নয়নে সময় লাগবে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়োনা হাসান বলেছেন, প্রশাসনিক ও আইনগত কাঠামোতে সংস্কার এগোচ্ছে, তবে বাস্তবে বড় পরিবর্তন দেখতে সময়, ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। সাভারের ব্র্যাক সিডিএম-এ ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ ইন্টারন্যাশনালের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ পরিবেশ সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে ১৭৯তম অবস্থানে থাকায় দ্রুত উন্নতি সম্ভব নয়। “এক বছরে ৫০তম স্থানে যাওয়া অবাস্তব। তবে ৫–৭ বছর ধারাবাহিক কাজ চললে ৭৩তম অবস্থানের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব,” বলেন তিনি। তাঁর মতে, এই অগ্রগতি হলে পরবর্তী সরকার সেই ভিত্তির ওপর কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভেঙে পড়া প্রশাসনিক কাঠামো উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তাই প্রথম কাজ ছিল এটিকে ন্যূনতমভাবে কার্যকর করা। “এখন পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হয়েছে। লক্ষ্য দূরে হলেও ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি।

জবাবদিহি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতার শিকারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তিনি জানান, অর্থবহ নির্বাচন সামনে অপেক্ষা করছে এবং ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনে সমাজের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আইনগত অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, বন সংরক্ষণে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিক বনে নতুন হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই জলাভূমি সংরক্ষণ আইনও পাস হবে।

পরিবেশ পরিস্থিতির উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সাভার অঞ্চল ইতোমধ্যে পরিবেশগতভাবে অক্ষয়িত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বায়ুদূষণের শীর্ষে থাকলেও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। অবনমিত অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে পুনর্বাসনের কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, সাভার এলাকার দূষণকারী ইটভাটা ও অন্যান্য শিল্প ইউনিট আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানান্তর করা হচ্ছে। শ্রমিকেরা কর্মহীন হবেন না—তাদের নতুন এলাকায় কৃষি–সম্পৃক্ত কাজে যুক্ত করা হবে।

উপদেষ্টা বলেন, শহরের পরিবেশ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা কিছুটা উন্নত হওয়ায় বাংলাদেশ আর পরিবেশ সূচকের একেবারে নিচে নেই। “সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে, তথ্য পাওয়া সহজ হচ্ছে এবং মত প্রকাশের সুযোগও বিস্তৃত হয়েছে,” বলেন তিনি।

এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৬২ দেশের ৮৫ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন এবং এটি ১১ দিন ধরে চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *