তরুণদের মানসিক চাপ মোকাবিলা ও সচেতনতা বাড়াতে রাজশাহী শাহ মাকদুম কলেজে অনুষ্ঠিত হলো ‘টক হোপ ফর লাইফ’ মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও চাপ ব্যবস্থাপনা কর্মশালা। ড. মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১১ই ডিসেম্বর) আয়োজিত এই কর্মশালায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় সংগঠন ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন।
মূল সেশন পরিচালনা করেন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল এবং ‘টক হোপ’ প্রকল্পের প্রধান মো. সাদ্দাম হোসেন রনি। তিনি মানসিক সংকট চিহ্নিতকরণ, দীর্ঘস্থায়ী চাপ নিয়ন্ত্রণ, আত্মহত্যা প্রতিরোধ এবং আশপাশের মানুষের মনোসামাজিক সংকেত বোঝার গুরুত্ব তুলে ধরেন। রনি বলেন, তরুণদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ এস. এম. রেজাউল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা যেকোনো সমস্যায় হতাশ না হয়ে সহায়তা চাইতে শিখতে হবে। উপাধ্যক্ষ মো. সাদিকুল ইসলাম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত কর্মশালার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। রোটারি ক্লাব অব রাজশাহী সেন্ট্রালের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মানসিক শক্তির প্রভাব শারীরিক সুস্থতায়ও কাজ করে বলে মন্তব্য করেন।
পরিবর্তন সংগঠনের পরিচালক রাশেদ রিপন বলেন, রাজশাহীর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। কোমেলা হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক ফারহানা শারমিন জেনি শিক্ষার্থী–অভিভাবক–শিক্ষকদের মধ্যে আন্তরিকতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। দিনের আলো হিজড়া সংগঠনের সম্পাদক সুলতানা আহমেদ সাগরিকা হিজড়া ও প্রতিবন্ধী মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও ভাবার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় টক হোপের প্রতিনিধি মো. তাহসিন গাজি ও মমিনুল ইসলাম নাবিল মানসিক চাপ, সামাজিক চাপ, সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্ক, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এবং নিজের আবেগ শনাক্ত করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁদের মতে, ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাস ও নিরাপদভাবে কথা বলার সুযোগ তরুণদের মানসিক শক্তি বাড়ায়।
ইয়ুথ কেবির সভাপতি মো. জুলফিকার হায়দার মনে করেন, বর্তমান সমাজে অনিশ্চয়তা বাড়ায় তরুণদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজক ফাউন্ডেশন জানায়, তরুণদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নীরবতা ভাঙতে তারা নিয়মিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে রাজশাহীর আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মশালায় উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত মানসিক চাপ ও পারিবারিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন এবং এমন কর্মশালা নিয়মিত আয়োজনের অনুরোধ জানান।
শেষ বক্তব্যে মো. সাদ্দাম হোসেন রনি সবাইকে নিজের এবং পাশের মানুষের মানসিক সুস্থতার প্রতি সচেতন থাকার আহ্বান জানান।