চীন সরকারের অর্থায়নে প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রীদের জন্য একটি নতুন আবাসিক হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হল’। সোমবার এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করেছে চীনের একটি বিশেষজ্ঞ দল।
ফিজিবিলিটি স্টাডির সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন। চীনা বিশেষজ্ঞ দলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে প্রস্তাবিত হল এলাকার স্থান জরিপ করে। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি, প্রকৌশলী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রমের সময় রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চীন সবসময় বাংলাদেশের শিক্ষাখাতের উন্নয়নে পাশে থাকতে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, এই মৈত্রী হল শুধু একটি ভবন নয়। এটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও বন্ধুত্ব বিনিময়ের একটি স্থায়ী সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।
শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অংশ হিসেবে নির্মিত হতে যাওয়া এই হলটি হবে ১ হাজার ৫শ’ আসনবিশিষ্ট। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা।
এর আগে রোববার চীনের বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান সুন ছ্যাংয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
সভায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় চীনের বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পের একটি প্রাথমিক নকশা উপস্থাপন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনে এই হল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে।