অস্ট্রেলিয়ার বন্দি বীচে গত ১৪ ডিসেম্বর সংঘটিত ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় নিহত আক্রমণকারীর পরিচয় নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তিনি ভারতের হায়দরাবাদের বাসিন্দা সাজিদ আকরাম (৫০)। এই হামলায় তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাভিদ আকরামও জড়িত ছিলেন। পুলিশের গুলিতে আহত নাভিদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভারতীয় পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, সাজিদ আকরামের পরিবার তার চরমপন্থী মনোভাব বা সহিংস কোনো পরিকল্পনার কথা জানত না। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আত্মীয়দের সঙ্গে খুব সীমিত যোগাযোগ রাখতেন। এমনকি ২০১৭ সালে তার পিতার মৃত্যুর সময়ও তিনি ভারতে ফেরেননি। সাজিদের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য হায়দরাবাদেই বসবাস করেন। তার বড় ভাই পেশায় একজন চিকিৎসক।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাজিদ আকরামের বিরুদ্ধে ভারতে কোনো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পর্যায়ে তার কোনো চরমপন্থী নেটওয়ার্ক বা যোগাযোগের তথ্যও নেই। তবে অস্ট্রেলিয়ায় তার গতিবিধি সম্পর্কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তদন্তে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গত নভেম্বরে সাজিদ ও তার ছেলে নাভিদ একসঙ্গে ফিলিপাইনের ম্যানিলা সফর করেছিলেন। দুজনের একই সময়ে দেশটিতে প্রবেশের বিষয়টি তদন্তকারীদের বিশেষ নজরে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি জানিয়েছেন, এই হামলার পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বন্দি বীচে একটি ইহুদি অনুষ্ঠানে এই হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত হন। অস্ট্রেলিয়ায় গত তিন দশকের মধ্যে এটি অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই হামলার পর দেশ-বিদেশে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একযোগে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—একজন সাধারণ পরিবারের মানুষ কীভাবে ধীরে ধীরে চরমপন্থার পথে এগিয়ে গেলেন এবং তার এই পরিবর্তনের কোনো পূর্বাভাস আদৌ কেউ বুঝতে পেরেছিল কি না। তদন্ত এখনও চলমান। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা চরমপন্থা ও সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত নজরদারির গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।