চীনের সিছুয়ান প্রদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে দেশটির প্রথম হাই আল্টিটিউড ও টানেল-ভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কম্পিউটিং সেন্টার। আধুনিক প্রযুক্তি আর প্রাকৃতিক পরিবেশকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই প্রকল্পকে।
এই কম্পিউটিং সেন্টারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর অবস্থান। একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পুরোনো নির্মাণ টানেলগুলোকে রূপান্তর করা হয়েছে ডেটা সেন্টারে। পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত হওয়ায় টানেলের ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বাইরের তুলনায় অনেক কম থাকে।
টানেলের প্রবেশপথে বসানো থার্মোমিটারে দেখা গেছে, ভেতরের তাপমাত্রা মাত্র ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীত ও বসন্ত তো বটেই, গ্রীষ্মকালেও এখানে অতিরিক্ত গরম অনুভূত হয় না। টানেলগুলো সারা বছর শীতল ও শুষ্ক থাকে। ফলে বিশাল সার্ভার ঠান্ডা রাখতে আলাদা করে কৃত্রিম শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা এসির ওপর নির্ভর করতে হয় না। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে বড় পরিসরে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই কম্পিউটিং সেন্টারে ছয়টি কম্পিউটিং মডিউল চালু করা হয়েছে। বর্তমান সক্ষমতায় এটি প্রায় ২৪ কোটি ডেস্কটপ কম্পিউটারের সমান কম্পিউটিং শক্তি সরবরাহ করতে পারে, যা সাধারণ দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারের তুলনায় বিশাল ক্ষমতা।
এই কেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছে জলবিদ্যুৎ এবং সৌরশক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি ‘হাইড্রো-সোলার কমপ্লিমেন্টারি’ প্রকল্পের মাধ্যমে। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সর্বোচ্চ উচ্চতার এমন প্রকল্পগুলোর একটি বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল শক্তির যোগান নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে পাহাড়ের প্রাকৃতিক গুহা ও টানেল ব্যবহার করে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমিয়ে আনছে। প্রযুক্তি উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্যে এটি একটি নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।