সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক হত্যা, ধর্ষণ, উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে এ সমাবেশের আয়োজন করে সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চার কুমিল্লা জেলা ও মহানগর শাখা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায়। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিকাশ চন্দ্র সাহা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামল কৃষ্ণ সাহা, সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত্য দাশ টিটু, সহ-সভাপতি দিলীপ কুমার নাগ কানাই, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. বনশ্রী সাহা, সদস্য সচিব সঞ্জিত দেবনাথ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমল চন্দ খোকন, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান দিলীপ মজুমদারসহ আরও অনেকে।
সমাবেশে কুমিল্লার সনাতনী সমাজের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মধুসূদন বিশ্বাস লিটন।
বক্তারা বলেন, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে গার্মেন্টস শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস (২৮) নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এর আগে ৬ ডিসেম্বর রংপুরের তারাগঞ্জে প্রধান শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় এবং তাঁর সহধর্মিণী সুর্বনা রায়, একই দিনে ফরিদপুরের সালথায় মৎস্য ব্যবসায়ী উৎপল সরকার এবং ২ ডিসেম্বর নরসিংদীর রায়পুরায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রান্তোষ কর্মকারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার পাশাপাশি সারাদেশে অর্ধশতের বেশি হত্যা ও ধর্ষণ, শত শত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা বলেন, পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য ভয়ংকর হুমকি।
সমাবেশ থেকে ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডসহ দেশের প্রতিটি হত্যা, বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা।