বাংলাদেশের সাহিত্য পত্রিকার সংস্কৃতি, সম্ভাবনা ও সংকট নিয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলা একাডেমিতে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্নারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের সাহিত্যাঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহারসহ বিভিন্ন লেখক, সম্পাদক ও সাহিত্যকর্মীরা।
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম বলেন, সাহিত্য পত্রিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে সাহিত্য চর্চা গড়ে ওঠে। লেখক, পাঠক, সম্পাদক ও প্রকাশনার বিভিন্ন ধাপ মিলেই একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়। তিনি বলেন, সংকট থাকলেও সাহিত্য পত্রিকার সামনে সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাগুলো নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, বাংলা সাহিত্যের ম্যাগাজিন সংস্কৃতি বহু পুরনো ও সমৃদ্ধ। একসময় ঢাকা মফস্বল হলেও এখান থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হতো। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারা কিংবা প্রয়োজনীয়তা কমে যাওয়ার কারণে অনেক পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কাগজের বই হয়তো শৌখিন বস্তুতে পরিণত হতে পারে। তাই সাহিত্য পত্রিকাকে অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই পাঠকের কাছে পৌঁছাতে হবে। একই সঙ্গে এটিকে একটি কার্যকর প্রোডাক্ট হিসেবেও ভাবতে হবে, না হলে দীর্ঘদিন টিকে থাকা কঠিন হবে।
কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, সাহিত্যের মূল কাজ হলো সম্পর্ক তৈরি করা। প্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করা প্রয়োজন, তবে মুখোমুখি বসে সরাসরি সাহিত্য চর্চা চালিয়ে যাওয়াও জরুরি। তিনি বলেন, সাহিত্য শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি অত্যন্ত গুরুতর ও দায়িত্বশীল বিষয়। অনেক সময় সাহিত্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, এমনকি ডিজিটাল মাধ্যমে প্রপাগান্ডাও ছড়ানো হয়। তাই আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাহিত্যের ধারাকেও আধুনিক হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই সাহিত্য চর্চা জারি থাকাটা আশাব্যঞ্জক।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, একসময় লিটল ম্যাগাজিন ও সাহিত্য সাময়িকী ছিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। প্রেম, ভ্রাতৃত্ব ও দ্রোহের ভাষা প্রথম উঠে আসত এসব পত্রিকায়। আজ বিশ্ব দ্রুত আধুনিক হচ্ছে, কাগজের বই ই-বুকে রূপ নিচ্ছে, পত্রিকা অনলাইনে ঝুঁকছে। তবু সাদা কাগজে কালো কালির হরফের আবেদন এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘ তিন বছরের অভিজ্ঞতা থেকে তারা সাহিত্য সাময়িকীর প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভব করেছেন। সেই উপলব্ধি থেকেই তাদের ম্যাগাজিনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সাহিত্য সাময়িকীর সংস্কৃতি, সংকট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সময়োপযোগী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাহিত্য পত্রিকার ধারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।