খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৬-কে স্বাগত জানাতে চীনজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। রাজধানী বেইজিং থেকে শুরু করে দেশের উত্তর ও অন্যান্য অঞ্চলে নতুন বছর ঘিরে দেখা যায় ব্যাপক সাংস্কৃতিক উল্লাস। এসব আয়োজনে একদিকে যেমন তুলে ধরা হয়েছে চীনের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, অন্যদিকে তেমনি জায়গা পেয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন সৃষ্টিশীলতা।
বেইজিংয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টসে অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে চীনের ঐতিহ্যবাহী অপেরাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশন করা হয় নানা ক্লাসিক ও আধুনিক রূপায়ণ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংসহ কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার শীর্ষ নেতারা। সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে বসেই তারা উপভোগ করেন এই সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
এই আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর মাধ্যমে চীনা অপেরার সংগীত, নাট্যরীতি ও নান্দনিক সৌন্দর্য নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। আয়োজকরা জানান, এর লক্ষ্য ছিল নতুন বছরে সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস জোরদার করা।
একই সময়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপ আয়োজন করে নববর্ষের বিশেষ গালা অনুষ্ঠান “সেইল ইনটু ২০২৬”। শানসি প্রদেশের লুলিয়াং শহরে ধারণ করা এই গালা ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টা থেকে সিসিটিভি, রেডিও ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার করা হয়।
৬০টিরও বেশি পরিবেশনায় সাজানো এই গালায় ছিল গান, নাচ, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, মার্শাল আর্ট, অপেরা এবং রোবট-সহায়ক ম্যাজিক শো। এসব পরিবেশনার মাধ্যমে একদিকে তুলে ধরা হয় চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, অন্যদিকে দেখা যায় উদ্ভাবন ও আধুনিকতার ছোঁয়া।
গালায় বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় ইয়াংজি রিভার ডেল্টার অর্থনৈতিক উদ্ভাবন, বেইজিং-থিয়ানচিন-হ্যপেই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক শক্তি এবং গ্রেটার বে এরিয়ার সমন্বিত উন্নয়নচিত্র। পাশাপাশি ছিল তাইওয়ান অঞ্চল থেকে পাঠানো নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তা। অনুষ্ঠানে মেরু অভিযাত্রী, মহাকাশচারী, সীমান্তরক্ষী, জাতীয় ক্রীড়াবিদ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও অনুপ্রেরণার কথাও তুলে ধরা হয়।
এই দুই আয়োজন মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, চীনের অগ্রযাত্রা শুধু অর্থনীতি বা প্রযুক্তিনির্ভর নয়। সাংস্কৃতিক পরিচয়, ঐতিহ্যের মর্যাদা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণকেও গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি। নতুন বছরের প্রাক্কালে এসব অনুষ্ঠান চীনের জনগণের মধ্যে যেমন আনন্দ ছড়িয়েছে, তেমনি ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে আস্থা ও আশার বার্তাও দিয়েছে।