যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) গত ডিসেম্বরে জেফ্রি ইপস্টিন–সংক্রান্ত প্রায় ৩০ হাজার নথি প্রকাশ করেছে। কিন্তু এই প্রকাশকে ঘিরে স্বস্তির বদলে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক ও রাজনৈতিক অস্বস্তি। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক ম্যাগা (MAGA) শিবিরে এই নথি প্রকাশ বড় ধরনের হতাশা ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
প্রকাশিত নথিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, সংগীতশিল্পী মিক জ্যাগার ও পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে ইপস্টিনের কিছু ছবি ও যোগাযোগের তথ্য থাকলেও, নথির বড় অংশই কালো কালিতে ঢেকে রাখা হয়েছে। এই অতিরিক্ত সেন্সরশিপকেই অনেক ম্যাগা সমর্থক ‘কভার-আপ’ বা সত্য লুকানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটিই নাকি এখন পর্যন্ত “সবচেয়ে স্বচ্ছ প্রশাসন”। তবে এই দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, যদি সত্যিই স্বচ্ছতা থাকত, তাহলে এত বেশি তথ্য গোপন রাখা হতো না।
ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। একসময় তিনি ইপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের বিরোধিতা করেছিলেন। পরে জনচাপের মুখে তিনি প্রকাশে সম্মতি দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে নথিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে ট্রাম্পের নামও কিছু অভিযোগে এসেছে। যদিও DOJ দাবি করেছে, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছিল। এই পুরো বিষয়টি ম্যাগা শিবিরে ট্রাম্পের প্রতি আস্থার সংকট আরও গভীর করেছে।
ডানপন্থী কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমালোচনা শুরু করেছেন। ইনফোওয়ার্স–সম্পর্কিত ব্যক্তিত্ব অ্যালেক্স জোনস দাবি করেছেন, ট্রাম্প নাকি গোপন চুক্তির মাধ্যমে ‘ডিপ স্টেট’-এর সঙ্গে আপস করেছেন। আর সাবেক উপস্থাপক ওয়েন শ্রয়ার বলেছেন, ট্রাম্পের কথিত লড়াই এখন আর ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে নয়, বরং নিজের সমর্থকদের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে।
এই অসন্তোষ শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নেই। কংগ্রেসের ভেতরেও ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমন প্রেক্ষাপটে ম্যাগা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ম্যাগা এখন ধীরে ধীরে ট্রাম্প-কেন্দ্রিক আন্দোলন থেকে একটি বৃহত্তর ‘বিশ্বাসভিত্তিক’ জনআন্দোলনে রূপ নিচ্ছে, যেখানে ক্ষমতাধর এলিটদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের লড়াইই মূল বিষয়।
এদিকে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও আরও নথি প্রকাশের দাবি তুলেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন টমাস ম্যাসি ও রো খান্নার মতো কংগ্রেস সদস্যরা।
সব মিলিয়ে, ইপস্টিন নথি প্রকাশ ট্রাম্পের জন্য শুধু একটি পুরোনো কেলেঙ্কারি নয়। এটি এখন তার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি যদি আরও স্পষ্ট ও স্বচ্ছ অবস্থান না নেন, তাহলে ম্যাগা শিবিরে তার নিয়ন্ত্রণ আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
সূত্র : বিবিসি