মাত্র এক মাস বাকি থাকতে ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা দিয়েছে, তারা ভারতে অনুষ্ঠেয় কোনো ম্যাচ খেলতে সেখানে যাবে না। নিরাপত্তা ও খেলোয়াড়দের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে, বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হোক ।
মূলত কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো—বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ঢাকায় নতুন করে রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিসিসিআইয়ের এই পদক্ষেপের পর বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, “ভারতের ‘চরম সাম্প্রদায়িক’ ক্রিকেট নীতির প্রেক্ষাপটে বিসিবির এই সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই” ।
বিসিবির এক জরুরি বোর্ড সভায় ১৭ জন পরিচালক একমত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেন। বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, “শুধু খেলোয়াড় নয়, ভারতে গিয়ে আমাদের সমর্থক, সংবাদকর্মী ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারবে না ভারত। তাই আমরা আইসিসির কাছে অনুরোধ করেছি, আমাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়া হোক” ।
এই সিদ্ধান্তের ফলে টুর্নামেন্টের সূচিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে (৭, ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি) এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে (১৭ ফেব্রুয়ারি)। এই ম্যাচগুলোর মধ্যে ১৪ ফেব্রুয়ারির খেলায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড, যারাও তাদের গ্রুপপর্বের সব ম্যাচ ভারতে খেলার কথা রয়েছে। তাই ম্যাচ সরে গেলে ইংল্যান্ড দলের ভ্রমণ সূচিতেও পরিবর্তন আসতে পারে ।
আইসিসি এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে আগে পাকিস্তানকেও ভারতে না পাঠিয়ে তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই দৃষ্টান্ত বিবেচনায় বাংলাদেশের অনুরোধও গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।
এদিকে, বিসিবি বিসিসিআইয়ের কাছেও চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছে, মোস্তাফিজুরকে কেন আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যদিও আগে বিসিসিআই নিলামে তাকে অংশ নিতে বাংলাদেশ বোর্ডকে চিঠি দিয়েছিল। এই দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকায় ক্ষোভ আরও বাড়ে ।
এখন গোটা ক্রিকেট বিশ্বের দৃষ্টি আইসিসির দিকে— তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা শুধু বাংলাদেশের ভাগ্য নয়, পুরো টুর্নামেন্টের সূচি ও ভেন্যু বিন্যাসের ওপরও প্রভাব ফেলবে।