বরগুনায় মুগডাল চাষিরা দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যার মুখোমুখি। গুণগত বীজের অভাব, ফসল সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকা এবং বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়া—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ মুগডাল উৎপাদনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে অনেক কৃষক আগ্রহ হারাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ লোকসানের শঙ্কায় পড়ছেন।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে রেইন্স প্রকল্প। মুগডালের উৎপাদন বাড়ানো এবং বাজার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে প্রকল্পটির আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে এফএও বাংলাদেশ সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) কার্যালয়ে মুগডাল বিষয়ক একটি মাল্টিস্টেকহোল্ডার ভ্যালু চেইন রাউন্ডটেবিল আয়োজন করে।
এই রাউন্ডটেবিলে মুগডাল চাষি, ব্যবসায়ী, প্রক্রিয়াজাতকারী, নারী উদ্যোক্তা এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় মুগডালের উৎপাদন প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, বাজারজাতকরণ এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। অংশগ্রহণকারীরা ভ্যালু চেইনে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
এফএও বাংলাদেশ জানায়, মুগডালের ভ্যালু চেইনে সমন্বয় জোরদার করা গেলে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য চাষ আরও লাভজনক হবে। একই সঙ্গে এটি হবে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। এর সুফল পাবেন কৃষক, ভোক্তা এবং পরিবেশ—তিন পক্ষই।
রেইন্স প্রকল্পটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটিতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে এফএও বাংলাদেশ। অর্থায়ন করছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি প্রোগ্রাম (জিএএফএসপি) এবং তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে মুগডাল চাষে নতুন গতি আসবে এবং কৃষকের আয় বাড়বে।