তুচ্ছ কারণে মনোনয়ন বাতিল নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে:  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এ. এম. নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। বৈঠকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, গণভোট, তুচ্ছ কারণে মনোনয়ন বাতিল এবং প্রশাসনের একপক্ষীয় আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করে দলটি।

বৈঠক শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। তিনি বলেন, খুবই ছোট ও তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি এক হাজার টাকার নিচে এক মাসের ইউটিলিটি বিল বকেয়া, ব্যাংক হিসাব খোলার তারিখ না থাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ক্লেরিক্যাল মিস্টেকের কথা উল্লেখ করেন। এসব কারণে প্রার্থীরা হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং সামাজিকভাবে হেয় হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, মনোনয়ন বাতিলের ক্ষেত্রে বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, আবার কারও মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তার ভাষায়, এ ধরনের আচরণ কাম্য ছিল না এবং এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

তিনি আরও বলেন, ঋণখেলাপি হওয়া, মামলার তথ্য গোপন করা কিংবা সম্পদের তথ্য গোপনের মতো মৌলিক বিষয় থাকলে মনোনয়ন বাতিল যৌক্তিক। কিন্তু সামান্য ও তুচ্ছ কারণে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল নির্বাচনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

গণভোট প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, নির্বাচনের সামগ্রিক আলোচনার ভেতর থেকে গণভোটের বিষয়টি ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। এ বিষয়ে তারা আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সেই আশঙ্কাই এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উচিত গণভোটের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আনা এবং গণভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিষয়ে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, লুট করা অর্থ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এতে নির্বাচনী মাঠের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, কিছু নেতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন এবং ভিআইপি প্রোটেকশন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর জরিপ প্রকাশের মাধ্যমে জনমতকে একটি নির্দিষ্ট দিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এসব জরিপ নির্বাচনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও এই মৃত্যুতে শোকাহত। তবে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি লক্ষ করা যাচ্ছে। তার অভিযোগ, প্রশাসন একটি বিশেষ দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা একপক্ষীয় নির্বাচনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

এগারো দলীয় সমঝোতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। তিনি জানান, তারা একসঙ্গে সংস্কার কমিশনে কাজ করেছেন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করেছেন। দলগুলোর মধ্যে বোঝাপড়া ভালো রয়েছে এবং সব পক্ষই সমঝোতা রক্ষায় আন্তরিক।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ. এ. এম. নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম এবং কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরি, অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান এবং ছাত্রনেতা ইমরান হোসাইন নূর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *