গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান অধ্যাপক আলী রীয়াজের

আসন্ন গণভোটকে ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনাকে গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, দেশের যারা আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন, তাঁরা যেন আর কখনও ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারেন—এটাই এবারের গণভোটের মূল লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার (৮ই জানুয়ারী) এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে ‘আসন্ন গণভোট এবং এনজিওসমূহের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ দাউদ মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। কর্মশালায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রায় সাড়ে চারশ এনজিও প্রতিনিধির অংশগ্রহণ ছিল।

সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট প্রচারের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত দেবেন দেশের আগামীর পথ কেমন হবে। তিনি জানান, নির্বাচনের দিনে ভোটাররা দুটি ব্যালট পাবেন—জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা এবং গণভোটের ব্যালট হবে রঙিন।

তিনি বলেন, দেশের ত্রুটিপূর্ণ রাষ্ট্র ও সাংবিধানিক কাঠামোর কারণে রাজনৈতিক ক্ষমতাসীনরা স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সুযোগ পান। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বিগত সরকারের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে যারা প্রাণ দিয়েছেন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—তাঁরা গণভোটের দায়িত্ব জনগণের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণভোটের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির পথ আরও সুগম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এনজিওসমূহের দীর্ঘকালীন সেবা ও দুর্যোগে ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এনজিওগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে—তাই প্রান্তিক জনগণকে গণভোট বিষয়ে সচেতন করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ আলোচক মনির হায়দার বলেন, পাকিস্তান আমলে যে দমন-পীড়নের মাধ্যমে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বদলানোর স্বপ্ন ছিল। তিনি বলেন, গণভোটে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংস্কার অনুমোদিত হলে সংসদীয় ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে, বিচার বিভাগে সংস্কার ও বিকেন্দ্রীকরণ হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা বাড়বে। না হলে দেশ আবার ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার গণভোট কী ও কেন—শীর্ষক উপস্থাপনায় গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদের সংশ্লিষ্ট সংস্কার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ দাউদ মিয়া জানান, নিবন্ধিত এনজিওগুলোর প্রত্যক্ষ ৫০-৬০ লাখ উপকারভোগী, তাদের পরিবার এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো একসাথে কাজ করবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *