ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ সরকারি সফরে জিবুতিতে পৌঁছেছেন। রাজধানীতে তিনি প্রেসিডেন্ট ইসমাইল ওমর গুয়েলেহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় দুই নেতা আঞ্চলিক ভূরাজনীতি, শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, লজিস্টিকস ও উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তারা।
আবি আহমেদের বিবৃতিতে বলা হয়—স্থিতি, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে দুই দেশ আগ্রহী। লোহিত সাগর ঘিরে সাম্প্রতিক কৌশলগত পরিবর্তনের মধ্যে এ সফরকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী আবি দোরালে বন্দর কমপ্লেক্স ঘুরে দেখেন। এটি সমুদ্রপথে ইথিওপিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। ইথিওপিয়া নিজে ভূমিবেষ্টিত দেশ হওয়ায় জিবুতির বন্দর তার অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জিবুতি ও মিশরের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া সহযোগিতা চুক্তিও আলোচনায় আসে। ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর মিশরের শিল্প উন্নয়ন ও পরিবহন মন্ত্রী কামেল আল-ওয়াজির সরকারি সফরে জিবুতিতে যান। তখন জিবুতি বন্দর ও ফ্রি জোন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে দুই দেশ বন্দর উন্নয়ন, লজিস্টিকস এবং নবায়নযোগ্য শক্তি—এই তিন খাতে সহযোগিতা চুক্তি সই করে। চুক্তিগুলো হয় জিবুতি আন্তর্জাতিক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিবুতির পরিবহন ও সরঞ্জাম মন্ত্রী হাসান হুমেদ, মিশরে নিযুক্ত জিবুতির রাষ্ট্রদূত আহমেদ আলি বারেহ এবং জিবুতিতে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত আব্দুররহমান রাফাত খাত্তাব।
লোহিত সাগর ও আশপাশের করিডোর ধরে বাণিজ্য, লজিস্টিকস ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বড় শক্তি ও আঞ্চলিক দেশগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। জিবুতির কৌশলগত অবস্থান এ কারণে আন্তর্জাতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।