ভারত কি ক্রিকেটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে?

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনার প্রভাব এবার ক্রিকেটেও পড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর দুই দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে কূটনৈতিক টানাপড়েন তীব্র হয়েছে।

২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেয়। আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যায় বলা হয়, “পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন”। বাংলাদেশ পক্ষের মতে, ব্যাখ্যাটি অস্পষ্ট এবং মূল কারণ রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ এবং ভারতে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ অন্য দেশে নেওয়ার দাবি তোলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-র চেয়ারম্যান জয় শাহ বাংলাদেশকে জানিয়ে দেন—বিশ্বকাপ ভারতে হবে এবং তা পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত গত এক দশকে ক্রিকেটকে কেবল কূটনীতি বা সফট পাওয়ার নয়, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও চাপ সৃষ্টির হাতিয়ারে পরিণত করেছে। কারণ ক্রিকেটের আর্থিক কাঠামোতে ভারত একাই আয় এনে দেয় প্রায় ৮০ শতাংশের মতো। এ অর্থনৈতিক প্রভাব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ও টুর্নামেন্ট আয়োজনে ভারতকে শক্ত অবস্থান দেয়।

বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের চাপের মুখে নত না হয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানায়। সরকারের বক্তব্য—ক্রিকেটের মাধ্যমে অসম আচরণ আর মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি তারা আত্মমর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখছে।

পাকিস্তানও দীর্ঘদিন ধরে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ করে দেয়। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে ম্যাচ খেলতে রাজি না হয়ে ভারত নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ খেলে—যা পরে ‘হাইব্রিড মডেল’ নামে পরিচিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, আগে ক্রিকেট দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করেছিল। ইতিহাসে ‘ক্রিকেট কূটনীতি’র উদাহরণও আছে—১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে ভারত সফর করেন, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখে। আজ সেই একই ক্রিকেটকে বিভেদের মাধ্যম হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে ভারত।

দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে ক্রিকেটের চরিত্রও বদলে গেছে। মাঠে ব্যাট-বল আছে ঠিকই, কিন্তু তার চেয়ে বেশি আছে রাজনীতি, জাতীয় স্বার্থ ও কূটনৈতিক হিসাব।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *