লিবিয়ার মতো ভুল করবেন না’—ইরানকে সতর্ক করলেন আইশা গাদ্দাফি

ওমানে নির্বাসিত লিবিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির কন্যা আইশা গাদ্দাফি ইরানের জনগণের উদ্দেশে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি পশ্চিমাদের নীতি ও কূটনৈতিক প্রতারণার প্রতি সতর্ক করেছেন এবং ইরানি জনগণের অবিচল মনোবল ও স্বাধীনতার প্রতি তার সমর্থন জানিয়েছেন।

আইশা গাদ্দাফি বলেন, তার পরিবার ও দেশ ধ্বংসের মুখোমুখি হওয়ার পিছনে প্রধান ভূমিকা ছিল ঠিক সেই পশ্চিমা দেশগুলির দিকনির্দেশনা। তিনি বলেন, “আমার পিতা কর্নেল গাদ্দাফিকে বলা হয়েছিল যে যদি তিনি পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করেন, তাহলে পশ্চিমা শক্তির দরজা তার জন্য খুলে যাবে। পিতা এই কথায় আস্থা রেখে তাদের শর্ত গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পরিণামে কী দেখেছি? ন্যাটোর বোমাবর্ষণে লিবিয়া ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার দেশ ধ্বংসের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হারিয়েছে, জনগণ দারিদ্র্য ও নির্বাসনে জীবন যাপন করছে।” এই অভিজ্ঞতার আলোকে আইশা গাদ্দাফি ইরানী জনগণকে সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমাদের প্রতারণা ও স্লোগানে ভরসা করলে ইরানের গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

আইশা গাদ্দাফি তার বার্তায় ইরানের জনগণের সাহস, মর্যাদা ও শক্তির প্রশংসা করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা, গুপ্তচর ও অর্থনৈতিক চাপের মুখেও ইরান তার স্বাধিকার রক্ষা করছে। তিনি ইরানের জনগণ ও প্রতিরোধকে সম্মান জানিয়েছেন এবং বলেন, “শত্রুকে ছাড় দিলে ধ্বংস, বিভাজন ও দুর্ভোগ বাড়বে।”

আইশা গাদ্দাফি পশ্চিমা নীতির বিপরীতে এমন কিছু দেশের উদাহরণও টানেন যারা শক্ত অবস্থান রেখেছে, যেমন কিউবা, ভেনেজুয়েলা, উত্তর কোরিয়া ও ফিলিস্তিন। তিনি বলেন, এসকল জাতিরা নিজেদের অবস্থান দৃঢ় রেখে নিজেদের ইতিহাসে সম্মানের স্থান তৈরি করেছে, আর যারা আত্মসমর্পণ করেছে তারা ইতিহাসে হারিয়ে গেছে।

বিবৃতির শেষে তিনি ইরানের জনগণ, ইরানের প্রতিরোধ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তার শুভেচ্ছা ও সংহতি প্রকাশ করেন।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *