‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’র আত্মপ্রকাশ

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ (এনপিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্ল্যাটফর্মটির উদ্যোক্তা হিসেবে দেখা যায় বাম সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছেড়ে আসা একটি অংশকে।

এনপিএর মুখপাত্র হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় তিনজনের—নাজিফা জান্নাত, মঈনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান নামে পরিচিত) এবং ফেরদৌস আরা রুমি। একই অনুষ্ঠানে ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত সদস্যদের তালিকায় ছাত্র ইউনিয়ন ঘরানার বিভিন্ন প্রজন্মের নেতা, ঢাবি ছাত্র ইউনিয়নের একাধিক বর্তমান-সাবেক নেতা, আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র এবং এনসিপি থেকে পদত্যাগী একটি অংশকে দেখা যায়। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে আছেন—অনিক রায়, অলিক মৃ, সৈয়দা নীলিমা দোলা, সৈয়দ ইমতিয়াজ নদভী, বাকী বিল্লাহ, মেঘমল্লার বসু, মাঈন আহমেদ ও অলিউর সান।

ঘোষণাপত্র পাঠ করেন তিন মুখপাত্র। নাজিফা জান্নাত সংগঠনের পাঁচ মূলনীতি তুলে ধরেন—গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়, মৌলিক অধিকার এবং প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ সুরক্ষা।

দাবির তালিকায় রয়েছে—সংবিধান সংস্কার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, অর্থনৈতিক রূপান্তর, সাম্য ও সম-অধিকার নিশ্চিতকরণ, গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের পরেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে নাগরিকের জীবনহানি এবং উগ্র গোষ্ঠীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন অনুভূত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বামঘরানার রাজনৈতিক ভাঙন এবং নাগরিক সমাজভিত্তিক নতুন রাজনৈতিক আখ্যানের পরীক্ষা—দুই প্রবণতাই বাংলাদেশে চোখে পড়ছে। এনপিএ কোন ধারায় দাঁড়াতে চায়, তা এখনই স্পষ্ট নয়। এটি বাম রাজনীতির নতুন আঙ্গিক নাকি নাগরিক রাজনীতি-মুখী একটি প্ল্যাটফর্ম—আগামী কয়েক মাসে পরিষ্কার হবে।

আগামী সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটি রোডম্যাপ প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে। তাতে নির্বাচন, মাঠের রাজনীতি, আঞ্চলিক সংগঠন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ডিজিটাল প্রচারণার মতো বাস্তব বিষয় উঠে আসে কি না—সেটি লক্ষ্য করার বিষয়।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্ল্যাটফর্ম সাধারণত সামাজিক আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে দল বা জোটে রূপ নেয়ার উদাহরণ রয়েছে। এনপিএর ক্ষেত্রেও একই সম্ভাবনা উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে এটি স্থায়ী রাজনৈতিক শক্তি হতে চায় নাকি পরীক্ষামূলক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থাকবে—তা সময় বলে দেবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *