সাভারে সিরিয়াল খুনের অভিযোগে ‘সম্রাট’ গ্রেপ্তার

ঢাকার সাভারে একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে গত কয়েক মাসে পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করেছে এবং পুলিশ এটাকে সিরিয়াল হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছে।

প্রথম মৃতদেহটি উদ্ধার হয় ২০২৫ সালের আগস্টে। অচেনা এক যুবকের দেহ পাওয়া যায় ভবনের ভেতর থেকে। এরপর অক্টোবর ও ডিসেম্বরেও আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার হয়। তখনই পুলিশের সন্দেহ হয় যে ঘটনাগুলো পরিকল্পিত হতে পারে এবং এতে একই ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে।

সাম্প্রতিক ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি। ওইদিন একই ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে পোড়ানো অবস্থায় দুইটি দেহ উদ্ধার হয়। ধারণা করা হয়, এগুলোর একটি একজন নারী এবং অন্যটি এক কিশোরের হতে পারে। পোড়ানোর কারণে দেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ ভবনের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। ফুটেজে দেখা যায় একজন ব্যক্তি এক যুবকের লাশ নিয়ে যাচ্ছেন। রাতেই পুলিশ তাকে আটক করে। তার পরিচয় জানা যায়—মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০)। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী তিনি অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় থাকতেন এবং মাঝে মাঝে ওই ভবনে রাত কাটাতেন।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট পুলিশকে জানায় যে ভবনের ভেতর পাঁচ–ছয়টি হত্যাকাণ্ডে সে নিজেই জড়িত ছিল। পুলিশ বলছে, সে মৃতদেহ ভবনে নিয়ে যাওয়া এবং পোড়ানোর কথাও স্বীকার করেছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় পুলিশ এখনো তার বক্তব্য যাচাই করছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না।

এ ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে—

  • ভবনটি দীর্ঘদিন কেন পরিত্যক্ত ছিল এবং নিরাপত্তা নজরদারি কোথায় ব্যর্থ হলো?
  • হত্যাকাণ্ডগুলোর উদ্দেশ্য কী ছিল?
  • সম্রাট একাই  করেছে নাকি অন্য কেউ জড়িত ছিল?

ঘটনাটি এখন শুধু রহস্যজনক হত্যার ঘটনা নয়; এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা, সমাজে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং পুলিশের নজরদারি নিয়ে নতুন আলোচনাও তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *