সমুদ্রে জেলিফিশের আধিপত্য, বিপদে পটুয়াখালী-বরগুনার জেলেরা

পটুয়াখালী ও বরগুনার উপকূলীয় এলাকায় কয়েক মাস ধরে জেলেদের জালে মাছের বদলে ধরা পড়ছে বিপুল পরিমাণ জেলিফিশ বা স্থানীয়দের ভাষায় ‘নুইন্যা’। এর ফলে মাছ ধরা কমে গেছে, জাল নষ্ট হচ্ছে এবং সমুদ্রভিত্তিক জীবিকা বড় ধরনের চাপে পড়েছে।

উপকূলের জেলে ও স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা যেত, এখন জালে উঠে আসছে শুধু নরমদেহী জেলিফিশ। জেলেদের দাবি, এই প্রবণতা বাড়ায় দিনে খরচ ওঠানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। জাল ছিঁড়ে যাওয়া বা ক্ষতি হওয়ায় অনেককে নতুন জাল কিনতে হচ্ছে, যা বাড়তি ব্যয় তৈরি করছে।

সমুদ্রজীববিজ্ঞানীরা বলছেন, পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দূষণ, লবণাক্ততার পরিবর্তন এবং নদীপথে ন্যুট্রিয়েন্টসমৃদ্ধ পানি প্রবাহ—এসব একসঙ্গে জেলিফিশ বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। জেলিফিশ সাধারণত মাছের আবাসস্থল অস্বস্তিকর করে তোলে, ফলে মাছ অন্য এলাকায় সরে যায়। এতে জেলের জালে মাছ কমে যায় এবং সমুদ্রে যাওয়া সত্ত্বেও আয় কমে যায়।

এ সমস্যা বাজারেও প্রভাব ফেলছে। সমুদ্রে মাছ কম ধরা পড়ায় অনেক ক্ষেত্রে বাজারে দাম বেড়েছে এবং সাধারণ ভোক্তার মাছের ক্রয় কমেছে। অন্যদিকে জেলিফিশ বাংলাদেশে খাদ্য বা পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, ফলে জেলেরা এই ধরা পড়া প্রাণী থেকে কোনো অর্থ উপার্জন করতে পারছেন না। অথচ জাপান, চীন ও কোরিয়ার মতো দেশে জেলিফিশ খাবার ও রপ্তানি পণ্যের বাজার আছে।

জেলেরা বলছেন, “মাছ কম পেতে থাকায় আরও গভীর সমুদ্রে যাচ্ছি। কিন্তু খালি জাল নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।” এ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে অনেকেই পেশা বদলাতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গবেষণা ছাড়া পরিস্থিতির সমাধান কঠিন। জেলিফিশের সংখ্যা কেন বাড়ছে, তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সমুদ্র পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় নতুন পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যদিকে সরকার চাইলে জেলিফিশের সম্ভাব্য বাজার বা রপ্তানি সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে পারে।

সমুদ্রের আচরণ বদলাচ্ছে—এটি শুধু জেলেদের নয়, উপকূলীয় অর্থনীতি, পরিবেশ ও খাদ্যব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করছে। সমন্বিত গবেষণা, নীতিনির্ধারকদের নজর এবং জেলেদের পাশে দাঁড়ানোই এখন প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *