বাংলাদেশে এখনো প্রতি দুইজন মেয়ের মধ্যে একজন ১৮ বছরের আগে বাল্যবিয়ের শিকার হয়। এই বাস্তবতা বদলাতে ব্র্যাক কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় ৭৫ হাজার কিশোরীর জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, নগদ সহায়তা এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনার ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি কিশোরীরা নিজেদের এবং সহপাঠীদের মধ্যে বাল্যবিয়ে রোধে সচেতনতা গড়ে তুলছে।
রাজশাহীতে ব্র্যাকের ‘স্বপ্নসারথি’ উদ্যোগের কার্যক্রম সম্প্রতি দেখতে যান কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং। সেখানে তিনি কিশোরীদের সাথে কথা বলেন। মেয়েরা স্বপ্ন, চ্যালেঞ্জ ও অর্জনের নানা গল্প শোনায়। অজিত সিং এটিকে “অনুপ্রেরণাদায়ক” বলে মন্তব্য করেন।
স্বপ্নসারথি উদ্যোগে কিশোরীরা জীবিকা দক্ষতা, আত্মরক্ষা, আর্থিক জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস গঠনের প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সহায়তা মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মজীবনের সুযোগ বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে রোধে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ চলমান থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ব্র্যাকের মতে, কিশোরীদের হাতে শক্তি, তথ্য ও সুযোগ পৌঁছে দিলে তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারে—এটাই বাল্যবিয়ে কমানোর মূল চালিকা শক্তি।
উদ্যোগটির অভিজ্ঞতা বলছে, পরিবার ও কমিউনিটি যুক্ত হলে কিশোরীরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ার পথে এগোতে পারে। রাজশাহীর মেয়েরা বলছে, তারা এখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করছে—যা কয়েক বছর আগেও ভাবা কঠিন ছিল।
বাল্যবিয়ে রোধে এমন উদ্যোগের বিস্তৃতি ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছে উন্নয়নকর্মীরা।