ইনডোরে ইলিশ চাষে সরকারের অনুমোদন নেই: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিশ মাছের ইনডোর বা কৃত্রিম পরিবেশে চাষ নিয়ে যে আলোচনা ও তথ্য ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (RAS) বা অন্য কোনো ইনডোর, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশ মাছ চাষের বিষয়ে সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন নেই। ফলে এ ধরনের পদ্ধতিতে ইলিশ চাষের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতিও দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে গতকাল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, ইলিশ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য। দেশের নদী ও উপকূলীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, ঐতিহ্য এবং বিপুলসংখ্যক জেলে ও মৎস্যজীবীর জীবিকা ইলিশের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ইলিশের উৎপাদন মূলত প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র ও নদীনির্ভর পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। তাই ইলিশ নিয়ে যেকোনো উদ্যোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং নীতিনির্ভর বিষয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ইলিশ সংক্রান্ত যেকোনো গবেষণা, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বা নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ অবশ্যই বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিয়ে করতে হবে। অনুমোদন ছাড়া কোনো কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সভা থেকে জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়, ইলিশের ইনডোর বা কৃত্রিম পরিবেশে চাষ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে কান না দিয়ে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *