লালমনিরহাট–এর কালীগঞ্জ উপজেলায় অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিম কার্ড ও একাধিক স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে, যা অবৈধ লেনদেন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি কর্মকর্তারা বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৪শে ফেব্রুয়ারি) রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ সময় নজরদারির পর একটি ভাড়া বাসা থেকে পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনলাইনে জুয়া পরিচালনা এবং অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
পুলিশের তথ্যমতে, আটক পাঁচজনের মধ্যে চারজনই চন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা। অপর একজনের বাড়ি নোয়াখালীর সুধনচর এলাকায়। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল।
অভিযানস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ৮২টি সিম কার্ড, যা বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের নামে নিবন্ধিত। এসব সিম মূলত ভুয়া বা একাধিক অনলাইন অ্যাকাউন্ট খোলা, অর্থ লেনদেন এবং পরিচয় গোপন রাখার কাজে ব্যবহার করা হতো বলে ধারণা করছে পুলিশ। এছাড়া ছয়টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে, যেগুলোতে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ও যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, অনলাইন জুয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এতে বিশেষ করে তরুণরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হচ্ছিল।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রচলিত জুয়া আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চক্রের পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ বলছে, অনলাইনভিত্তিক অপরাধ দমনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সাব্বির হোসেন
হাতিবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি