মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বাঁশ-বেত শিল্প ক্লাস্টারে ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুই দিনব্যাপী একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উদ্যোগ নেয় এসএমই ফাউন্ডেশন এবং কারিগরি সহযোগিতা দেয় বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)।
ঘিওরের এই ক্লাস্টারে প্রায় ১৫০টি পরিবার বাঁশ ও বেতের নানা ধরনের গৃহস্থালি ও হোম ডেকর পণ্য তৈরি করে। নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৬০০ জন কর্মী এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় অর্থনীতিতে এই খাতের গুরুত্ব বাড়লেও কাঁচামাল নষ্ট হওয়া, দীর্ঘ সময় ধরে শুকানো এবং পণ্যের স্থায়িত্ব কম থাকার মতো সমস্যায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল।
‘বাঁশ-বেত সিজনিং ও ট্রিটমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের তাত্ত্বিক ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে দেখানো হয়—
- কীভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে বাঁশ ও বেত শুকানো যায়
- কীভাবে নির্দিষ্ট মাত্রায় রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে পণ্যের স্থায়িত্ব বাড়ানো যায়
- কীভাবে কাষ্ঠের আর্দ্রতা (ময়েশ্চার) কমিয়ে শক্তি নিরূপণ করা যায়
সাধারণ পদ্ধতিতে বাঁশ-বেত শুকাতে ১৫ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে, যদি প্রতিদিন ৬–৭ ঘণ্টা রোদ পাওয়া যায়। এতে কাঁচামালের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়।
কর্মশালায় ‘সৌর কিল্ন’ বা মিনি গ্লাস হাউজ ব্যবহারের পদ্ধতি শেখানো হয়। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে একই কাজ ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব। ফলে উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো যায় এবং অপচয় কমে।
বাঁশ-বেত ও কাঠকে পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ‘বি-বি সল্যুশন’ নামে পরিচিত রাসায়নিক দ্রব্য নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রয়োগের কৌশল শেখানো হয়।
অংশগ্রহণকারীরা আরও শিখেছেন কীভাবে স্বল্প খরচে চৌবাচ্চা বা ট্যাংক তৈরি করে ট্রিটমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। এতে ছোট উদ্যোক্তারাও নিজস্ব ব্যবস্থায় পণ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন।
রিসোর্সপার্সন হিসেবে কর্মশালা পরিচালনা করেন মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, বিভাগীয় কর্মকর্তা, কাষ্ঠ সংরক্ষণ বিভাগ এবং ড. মো. রওশন আলী, বিভাগীয় কর্মকর্তা, কাষ্ঠ শুষ্কিকরণ ও শক্তি নিরূপণ বিভাগ, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট।
উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশন-এর উপ-ব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম ও জুনিয়র অফিসার মো. আবু সুফিয়ান। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র দেওয়া হয়।
ঘিওরের বাঁশ-বেত শিল্প মূলত ক্ষুদ্র ও পারিবারিক উদ্যোগনির্ভর। উৎপাদন সময় কমানো গেলে একই সময়ে বেশি পণ্য তৈরি সম্ভব হবে। এতে আয় বাড়বে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নত হবে।
বিজ্ঞানভিত্তিক সিজনিং ও ট্রিটমেন্ট পদ্ধতি চালু হলে স্থানীয় এই শিল্প শুধু টিকে থাকবে না, বরং দেশের বৃহত্তর হোম ডেকর বাজারেও শক্ত অবস্থান নিতে পারবে।