এসএমই ফাউন্ডেশন–বিশ্বব্যাংক বৈঠক: সবুজ ও টেকসই শিল্পে যৌথ সহযোগিতার আলোচনা

ঢাকায় এসএমই ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে সোমবার (২ মার্চ ) এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র, কুটির, মাইক্রো ও মাঝারি শিল্প (CMSME) খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল—টেকসই শিল্পায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা, গ্রিন ফাইন্যান্সিং, ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণ।

বিশ্বব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন হোসনা ফেরদৌস সুমী, তোষিয়াকি ওনো, মো. শাহ নওয়াজ এবং মাগুয়ে ডিয়া। পাশাপাশি সংস্থাটির পলিসি উইং-এর সদস্যরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নীতিগত দিকগুলো নিয়ে মতামত দেন।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম হাসান সাত্তার ও ফারজানা খান, এবং মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. আব্দুস সালাম সরদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৈঠকের শুরুতে উপমহাব্যবস্থাপক সুমন চন্দ্র সাহা ২০২৬–২০৩০ সময়কালের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। সেখানে এসএমই খাতের বর্তমান অবস্থা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। সম্ভাব্য কিছু যৌথ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করা হয়।

আলোচনায় বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল শিল্প ক্লাস্টার উন্নয়ন, গ্রিন কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার স্থাপন, এসএমই পণ্যের জন্য স্থায়ী প্রদর্শনী ও সেলস সাপোর্ট সেন্টার গড়ে তোলা, ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস সংযোগ, ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স মডেল চালু এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি ব্যবস্থার সম্প্রসারণে আগ্রহ দেখায়।

উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকরা। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।

সমাপনী বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের এসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী ও পরিবেশবান্ধব করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান এবং আগামীর কর্মসূচিতে সহায়তা কামনা করেন।

বাংলাদেশের শিল্পখাতে কর্মসংস্থান ও রপ্তানির বড় অংশই আসে এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে। ফলে এই বৈঠকের আলোচনাগুলো বাস্তবায়িত হলে, তা দেশের শিল্পায়ন ও সবুজ অর্থনীতির পথে নতুন গতি যোগ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *