বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস উপলক্ষে কুমিল্লায় “রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের সতর্কতা ও করণীয় (Safe Fasting for the Diabetic)” শীর্ষক এক সেমিনার ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২রা মার্চ) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার গোল্ডেন স্পুন রেস্টুরেন্টে ব্রাহ্মণপাড়া ডায়াবেটিক সমিতির আয়োজনে এ অনুষ্ঠান হয়। আয়োজকেরা জানান, রমজানকে সামনে রেখে ডায়াবেটিস রোগীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জসিম উদ্দিন । তিনি বলেন, ডায়াবেটিস এখন একটি নীরব মহামারি। নিয়মিত পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে সুস্থ থাকা সম্ভব। তিনি স্থানীয়ভাবে সচেতনতা কর্মসূচি বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণপাড়া ডায়াবেটিক সমিতির অনারারি কনসালটেন্ট ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ আতাউর রহমান জসীম। তিনি রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, ওষুধ ও ইনসুলিনের সময়সূচি ঠিক করা, ইফতার ও সেহরিতে সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা। তিনি সতর্ক করে বলেন, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে রোজা ভেঙে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ, জেলা সমাজসেবক কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোঃ আবদুল লতিফ, গাইনী বিশেষজ্ঞ দিলরুবা আক্তার, কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ জহির উদ্দিন এবং শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। বক্তারা বলেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পরিবার ও সমাজের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণপাড়া ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি এডভোকেট আ. হ. ম তাইফুর আলম। তিনি বলেন, সমিতি ভবিষ্যতেও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
সেমিনার শেষে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন আমন্ত্রিত অতিথি, চিকিৎসক, সংগঠক ও ডায়াবেটিস রোগীরা। আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এমন উদ্যোগ রোগীদের নিরাপদে রোজা রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সহায়তা করবে।