বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুক বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির–এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে পারস্পরিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বৈঠকে যুক্তরাজ্যের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা কর্মসূচি ডেভলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম (ডিসিটিএস) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশ স্বল্প শুল্ক বা শুল্কমুক্ত সুবিধায় যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানি করতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ সুবিধা বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে সহায়ক হবে এবং নতুন খাতে ব্যবসার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ভোক্তারাও তুলনামূলক কম দামে পণ্য পেতে পারেন।
হাইকমিশনার জানান, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী দেশ। অবকাঠামো, জ্বালানি, আর্থিক সেবা ও উৎপাদন খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ সরকারের রপ্তানি ঋণ সংস্থা ইউকে এক্সপোর্ট ফিনান্স (ইউকেইএফ) এবং উন্নয়নভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট (বিআইআই) বাংলাদেশে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
বৈঠকে অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে নীতিগত উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। যুক্তরাজ্য এ ধরনের সংস্কারে সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে জানায়।
বাংলাদেশ বর্তমানে ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে চায়। তৈরি পোশাকের বাইরে ওষুধ, আইটি সেবা, কৃষিপণ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের মতো খাতে রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিসিটিএস সুবিধা ও ব্রিটিশ বিনিয়োগ সহায়তা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান—দুটিই বাড়তে পারে।
বৈঠককে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।