বাংলাদেশে মানব পাচারের শিকার হয়ে ফিরে আসা নারীদের নতুনভাবে দাঁড় করাতে এক যৌথ কর্মসূচি শুরু করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনাল। দক্ষতা উন্নয়ন থেকে শুরু করে বাজার সংযোগ ও অর্থায়ন—পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে তারা একসঙ্গে কাজ করবে।
সোমবার (২ মার্চ ) রাজধানীতে এ লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর দীপ্তা রক্ষিত চুক্তিতে সই করেন।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মানব পাচার থেকে দেশে ফিরে আসা নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেক নারী বিদেশে প্রতারণা ও শোষণের শিকার হয়ে দেশে ফিরলেও পুনর্বাসনের সুযোগ সীমিত থাকে। ফলে তাদের জন্য টেকসই আয়ের পথ তৈরি করা জরুরি।
সমঝোতা অনুযায়ী, পাঁচটি ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করা হবে—
১. দক্ষতা উন্নয়ন
২. পণ্যের বাজারজাতকরণ
৩. অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি
৪. সরকারি সহায়তা সহজলভ্য করা
৫. সহায়তার একটি টেকসই মডেল তৈরি
উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা উন্নয়ন পরিকল্পনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদিত পণ্যের ক্রেতা-সংযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি মেলা আয়োজন, ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের ব্যবস্থাও থাকবে। দেশের এসএমই উন্নয়ন কাঠামো ও সরকারের নীতিগত সহায়তার সঙ্গে তাদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান ও নাজিম হাসান সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। উইনরক ইন্টারন্যাশনালের পলিসি অ্যাডভোকেসি স্পেশালিস্ট মৃন্ময় মহাজন এবং সিনিয়র ম্যানেজার (এন্টারপ্রাইজ ও এমপ্লয়মেন্ট) মো. গোলাম ফজলে রাব্বানীও অংশ নেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, সারা দেশে মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে তাদের চলমান কর্মসূচির সঙ্গে এই উদ্যোগ যুক্ত হলে আরও বেশি নারীকে সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানব পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি পুনর্বাসন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই যৌথ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ফিরে আসা নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।