বাংলাদেশ–উজবেকিস্তান সম্পর্ক জোরদারে তাশখন্দে বৈঠক

উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তাশখন্দে উজবেকিস্তান পার্লামেন্টের লেজিসলেটিভ চেম্বারের স্পিকার ইসমোলিভ নুরিদ্দিন–এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের বিষয়টি স্পিকারকে অবহিত করেন। তিনি জানান, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকত মির্জায়েভ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায়ের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বর্তমান অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি সুবিধাজনক সময়ে স্পিকারকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান।

স্পিকার ইসমোলিভ নুরিদ্দিন বাংলাদেশের নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্পিকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ–উজবেকিস্তান পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ পুনরুজ্জীবিত করার পরামর্শ দেন। এ উদ্যোগ সংসদীয় কূটনীতিকে আরও সক্রিয় করবে বলে তিনি মত দেন। তিনি বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের উজবেকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

দুই পক্ষই বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করেন। আলোচনায় এই সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ ও কার্যকর করতে সংসদীয় সহযোগিতার গুরুত্ব উঠে আসে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর যোগাযোগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের পার্লামেন্ট পর্যায়ের সক্রিয়তা ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *