দেশের পিছিয়ে পড়া ক্রীড়া ফেডারেশন ও সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের সহায়তায় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলনকক্ষে শীর্ষ কর্পোরেট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, সরকার ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলা বিস্তারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার অনুযায়ী খেলার মাঠ উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ঢাকার প্রায় ১০০টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রতি দুটি ওয়ার্ডের মাঝামাঝি ২ থেকে ৩ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করে নতুন মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব মাঠে প্রবীণদের হাঁটার জন্য আলাদা ‘ওয়াকওয়ে’ থাকবে। গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন সংস্কারহীন পড়ে থাকা মাঠগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে।
সরকারের আরেকটি বড় পরিকল্পনা হলো দেশের ৬৪টি জেলায় ইনডোর সুবিধাসহ ৬৪টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়বে।
তিনি আরও জানান, দেশে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ফুটসালের জন্য আলাদা মাঠ তৈরিতে সরকার সহায়তা দেবে। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া সামগ্রী দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে রপ্তানি বাড়বে এবং কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্পোরেট প্রতিনিধিরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা ক্রীড়া উন্নয়নে অংশীদার হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সরকারি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের গতি ও অর্থায়নের কাঠামো এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সরকারি ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করলে দেশের ক্রীড়াঙ্গন নতুন সুযোগের মুখ দেখতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।