শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের দেশ বাংলাদেশ হলেও তাদের সেবা দিতে এখনো অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো কাগুজে পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি এটিকে “অত্যন্ত দুঃখজনক” উল্লেখ করে দ্রুত অনলাইন ব্যবস্থায় রূপান্তরের ওপর জোর দেন।
রাজধানীর শ্রম ভবনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি কাজে কোনো অবহেলা সহ্য করা হবে না। যার যে দায়িত্ব, তা সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। তিনি প্রতিটি স্তরে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে শ্রমিকদের হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সেবার মান উন্নয়নে দেশের ৩২টি শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের সুবিধাভোগীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দ্রুত তৈরির নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি শ্রম অধিদপ্তরের আইটি খাতসহ চলমান উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তিনি। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোকে সময়ের দাবি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, শিশুশ্রম একটি জঘন্য অপরাধ। এটি প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি শ্রমিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে শ্রম পরিদর্শকদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফাহমিদা আক্তার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ওমর মোঃ ইমরুল মহসিন এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এর মহাপরিচালক মোঃ মুনির হোসেন খান।
সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর এই আহ্বান বাস্তবে কত দ্রুত রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। শ্রমিকদের জন্য প্রতিশ্রুত সেবা কতটা সহজ ও দ্রুত করা যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।