রাষ্ট্রীয় চুক্তি পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির–এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস. পল কাপুর। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করা, নতুন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মোঃ আবদুর রহিম খান এবং অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা নিয়ে আলাদা কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি জানান, এটি দুই দেশের মধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তি এবং ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। ফলে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন বার্তায় বাণিজ্য ও সামরিক প্রসঙ্গের উল্লেখ থাকলেও, সে বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, সামরিক বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় পড়ে না।

চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দুই পক্ষেরই কিছু দাবি থাকে। কিছু ধারা এক পক্ষের অনুকূলে, কিছু অন্য পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হয়। আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, চুক্তিটিকে এখনই সম্পূর্ণ ইতিবাচক বা নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এর বিভিন্ন ধারা কাজে লাগানো যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক ট্যারিফ সংক্রান্ত রায়ের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আলোচনা করে চুক্তিতে পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, কিছু নন-ট্যারিফ বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে। এতে দেশটি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব বাধা কমলে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহায়তা ও অর্থায়ন কার্যক্রমেও বাংলাদেশ আরও সহজে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।

ভিসা বন্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। সরকার চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন সহজে যাতায়াত করতে পারেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

সবশেষে তিনি বলেন, চুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই। সরকার নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *