মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে নিহত বাংলাদেশি কর্মী এস এম তারেকের মরদেহ আজ ঢাকায় পৌঁছেছে। সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে গালফ এয়ারের একটি ফ্লাইটে মরদেহটি আনা হয় এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ তা গ্রহণ করা হয়।
বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মরদেহ গ্রহণের পর মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রবাসী কল্যাণ, পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সরকারি সহায়তার বিষয়ে তিনি জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারটি পাবে ৩ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা এবং ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধা। ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত তিনজন প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছে। তিনি জানান, সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। গ্রিসের ক্যাম্পে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান বলে জানান তিনি।
বিমানবন্দরে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য আরও কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা ও আগাম সতর্কতা জরুরি।