কুষ্টিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে। প্রায় ৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার এসব মাদক বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সদরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ধ্বংস করা হয়।
“মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬” শীর্ষক এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানের শুরুতে কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গড়তে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে দিন-রাত কাজ করে সদস্যরা মাদক চোরাচালান ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মাদক শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি বড় সামাজিক সমস্যা। তাই এটি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও জরুরি।
তিনি মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন এবং সবাইকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে প্রধান অতিথি নিজ হাতে মাদক ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে বিভিন্ন অভিযানে ১৭৫ জনকে আটক করা হয়। এ সময় প্রায় ১১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়।
ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে ছিল—
- ৪,৪৩২ বোতল বিদেশি মদ
- ৭,৭৮৭ বোতল ফেন্সিডিল
- ৫৫০ কেজির বেশি গাঁজা
- ২৬ কেজির বেশি হেরোইন
- ৬ কেজির বেশি কোকেন
- ৬৭ হাজারের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট
- বিপুল পরিমাণ ভায়াগ্রা ও সিলডিনাফিল ট্যাবলেট
- এলএসডি, ভারতীয় ক্যাপসুল ও ইনজেকশনসহ বিভিন্ন মাদক
এসব মাদকের মোট মূল্য প্রায় ৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী মাদক জব্দ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নিয়মিতভাবে এমন ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, বিচার বিভাগ ও পুলিশ কর্মকর্তারা, বেসামরিক প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদ আহমেদ
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি