২ হাজার লিটার অবৈধ তেল উদ্ধার, গুদাম সিলগালা

ভোজ্য তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশজুড়ে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, অবৈধ মজুতদার ও কালোবাজারি চক্র দমন এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ বাজারেও চলছে সমন্বিত তৎপরতা।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো কাজীপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় বিজিবির নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) ও র‍্যাবের একটি যৌথ দল। অভিযানে রাজু ও খোরশেদ নামে দুই ব্যক্তির গুদাম থেকে প্রায় ২ হাজার লিটার খোলা সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়, যা নয়টি ব্যারেলে মজুত ছিল।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাজার থেকে খোলা তেল সংগ্রহ করে তা অবৈধভাবে মজুত করা হচ্ছিল। পরে সেগুলো বোতলজাত করে ‘বন্ধন প্লাস’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ নামে স্টিকার লাগিয়ে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। এ ধরনের কার্যক্রমকে প্রতারণামূলক উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এ ঘটনায় গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই ৫ হাজার ৪২৫ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। জয়পুরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ফেনী, কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে এ সাফল্য এসেছে।

এর আগে ২০২৪ সালে ১৩ হাজার ১৭৭ লিটার এবং ২০২৫ সালে ৩০ হাজার ৯২ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করে বাহিনীটি। সব মিলিয়ে দুই বছরে ৪৩ হাজার ২৬৯ লিটার তেল জব্দের মাধ্যমে সীমান্তপথে অবৈধ বাণিজ্য দমনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে বিজিবি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অবৈধ মজুত ও পাচার ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি। নিয়মিত ও বিশেষ টহল বাড়ানোর পাশাপাশি সন্দেহভাজন যানবাহন, নৌযান এবং গুদামে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সীমান্তবর্তী ৮ কিলোমিটারের বাইরেও যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে।

একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকার জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যাতে অবৈধ তেল মজুত ও পাচারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষ সচেতন হয়।

বিজিবির কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে ভোজ্য তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *