গাজা যুদ্ধের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ইসরায়েল এখন জয়ের চেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। যুদ্ধ শুধুই ধ্বংস নয়, সমগ্র অঞ্চলে অশান্তি এবং অস্থিরতা ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জায়নবাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতি এবং কৌশল এই টানা সংঘাতের মধ্যেই নিজের অসামর্থ্য প্রকাশ করছে।
যুদ্ধের দীর্ঘায়ু ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। ২০২৫ সালের আগস্টে হাজার হাজার মানুষ গাজা নীতির বিরোধিতা করে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়।
একই বছরের জুলাইয়ে চ্যানেল ১২–এর জরিপে দেখা যায়, ইসরায়েলের ৭৪ শতাংশ নাগরিক যুদ্ধ শেষ করতে হামাসের সঙ্গে চুক্তি এবং সব বন্দিকে মুক্ত করতে চায়।
দুই বছরের যুদ্ধের পর সেনারা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত। মারিভ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্লান্তিই হামাসকে পরাজিত করতে না পারার প্রধান কারণ। যন্ত্রপাতি ভেঙে পড়ছে, হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, আর মনোবল ভেঙে গেছে।
সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার এসব তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, কিন্তু পার্লামেন্ট তদন্তের দাবি জানিয়েছে, যা এখনও উপেক্ষা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীতে নিয়োগের জটিলতা এবং সমাজের বিভাজন যুদ্ধের বোঝা মধ্যবিত্ত ধর্মনিরপেক্ষদের ঘাড়ে চাপাচ্ছে। ২০২৪ সালে জিডিপি ১৯.৪% কমে যায়, ২০২৫ সালে আরও ৩.৩% পতনের আশঙ্কা। হুতি হামলার কারণে এলাত বন্দরের কার্যক্ষমতা মাত্র ৩%–এ নেমে এসেছে।
জাতিসংঘ ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মিত্র দেশগুলো থেকে দূরে সরে যাওয়ায় ইসরায়েল কৌশলগতভাবে একা হয়ে গেছে।
প্রথম প্রধানমন্ত্রী বেন গুরিয়নের “ইসরায়েল কখনো জোর করে শান্তি আনতে পারবে না, দীর্ঘস্থায়ী সেনাবাহিনীও টিকিয়ে রাখতে পারবে না” নীতি দুই বছরের সংঘাতের মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। জায়নবাদের ভিত্তিই এখন প্রশ্নের মুখে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দুই বছরের সংঘাত শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং জায়নবাদের নীতিগত এবং সামাজিক ভিত্তিকে দুর্বল করেছে। ইসরায়েলকে নতুন কৌশল ও সমাধানের দিকে মনোযোগ দিতে হবে, নয়তো ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাপ এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাবে।