গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে: জেট্রো

 

জাপানের এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) জানিয়েছে, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরেও জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমেনি। বরং আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেট্রোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা বাসসকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় আছে—এই ধারণা সঠিক নয়। জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তাদের ব্যবসার পরিধি সক্রিয়ভাবে বাড়াচ্ছে এবং এই দেশের প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ঢাকার জেট্রো অফিসে বিনিয়োগ বা ব্যবসা প্রসঙ্গে তথ্য অনুসন্ধানে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ ক্রমশ বেড়েছে। জেট্রোর আন্তর্জাতিক অফিসগুলোর মধ্যে ঢাকার অফিস এখন অন্যতম ব্যস্ততম।

কাতাওকা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় সুমিতোমো কর্পোরেশন পরিচালিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (বিএসইজেড) জাপানের ‘এনআইসিসিএ কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড’ একটি নতুন কারখানা নির্মাণ করছে। সেখানে একটি বন্ডেড গুদামও স্থাপন করা হবে। এছাড়া, লায়ন কর্পোরেশন স্থানীয় কল্লোল গ্রুপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে থালা-বাসন পরিষ্কারের সাবান ও টুথপেস্ট তৈরির কারখানা স্থাপন করছে।

জেট্রোর ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ব্যবসা করছে এমন ৫৭.৭ শতাংশ জাপানি কোম্পানি তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী। এই সংখ্যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং বিশ্বব্যাপী তৃতীয়।

কাতাওকা বলেন, যদিও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রবল, তবে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। প্রধান চ্যালেঞ্জ হল দুর্নীতি, বিশেষ করে কাস্টমস পর্যায়ে, এবং প্রশাসনিক জটিলতা। এছাড়া, ওয়ার্ক পারমিট ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেতে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা ছাড়পত্র ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যেখানে ২১ দিনের মধ্যে কোনো আপত্তি না থাকলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে।

কাতাওকা জোর দিয়ে বলেন, ব্যবসা বাড়াতে হলে সরকারের নীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। এছাড়া, আগামী নির্বাচনের দিকে বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হলে নতুন সরকার অর্থনৈতিক নীতি ঘোষণা করে আরও বিনিয়োগ আনা সম্ভব হবে।

তিনি নিশ্চিত করেন, নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয়, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারের কারণে। তাই ঢাকার জেট্রো অফিস বিনিয়োগ অনুসন্ধানের জন্য আগ্রহী অসংখ্য জাপানি কোম্পানির সাড়া পাচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *