গত ৫৩ বছরে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে শুধু সংঘাত ও বিভেদের রাজনীতি উপহার দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, “কে জাতির পিতা, কে স্বাধীনতার ঘোষক, কে ভারত, পাকিস্তান বা আমেরিকার দালাল—এসব বিতর্ক সৃষ্টি করে দলগুলো জাতিকে বিভক্ত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন সেই পুরোনো সংঘাতমুখী রাজনীতি আর দেখতে চায় না।”
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ডেমরা থানার উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি ঢাকা-৫ আসনের এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান আব্বাসীকে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
বিএনপি ও জামায়াতকে উদ্দেশ করে মঞ্জু বলেন, “দুটি দলের ভোট ও কর্মী বেশি বলে তারা অহংকারে দেশকে জিম্মি করে রেখেছে। এই অহংকার ভাঙতে পারে কেবল জনগণই—নির্বাচনের মাধ্যমে।”
তিনি বলেন, “মানুষ এখন পরিবর্তনের রাজনীতি চায়। বিএনপি-জামায়াতসহ পুরোনো দলগুলো দেশকে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে, যার ফলেই নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হাসিনার গুম-খুন, নির্যাতন ও আয়নাঘরের অপকর্মের বিরুদ্ধে আমরা সবাই—বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত, ছাত্ররা—লড়েছি যেন এই অপকর্ম আর না ঘটে, যেন বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ হয়। আমরা লড়েছি একটি ভালো বাংলাদেশের জন্য।”
এবি পার্টি চেয়ারম্যান আরও বলেন, “আমরা একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য সংগ্রাম করছি—যেখানে কেউ ফুটপাতে বসে বা কুকুরের সঙ্গে ঘুমাবে না। জনগণের ন্যায্য পাওনা ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য।”
দলের নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, “ব্যক্তি নির্ভর রাজনীতি থেকেই স্বৈরাচার জন্ম নেয়। ব্যক্তি পতন ঘটলে দলের পতন হয়। এবি পার্টি ব্যক্তি নয়, জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। আমাদের রাজনীতি সমস্যা সমাধানভিত্তিক, লক্ষ্য জনগণের সমস্যার সমাধান।”
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সহসম্পাদক আজিজা সুলতানা, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক সহসম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক সুলতান আরিফসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।